ভয়াবহ হড়পা বানের ক্ষত এখনও শুকোয়নি। তার মধ্যেই মঙ্গলবার রাতে ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল নেপাল। নতুন করে কম্পন অনুভূত হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, রাত ৯টা ৩৮ মিনিট নাগাদ নেপালে ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.০।

প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ত্রিশূলি নদীর পশ্চিম দিকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দূরে ছিল ভূমিকম্পের কেন্দ্র। কম্পনের পর পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন। এখনও পর্যন্ত এই ভূমিকম্পে নতুন করে বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতি কিংবা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

তবে নেপালের সামগ্রিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কয়েকদিন আগে ভয়াবহ হড়পা বানের জেরে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। জলস্রোতে বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভেঙে পড়ে একাধিক রাস্তা ও সেতু। বহু এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। দুর্গতদের উদ্ধারে এখনও তল্লাশি চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।

বন্যার জেরে বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ। স্বজনদের সন্ধানে হাসপাতাল ও বিভিন্ন উদ্ধারকেন্দ্রে ঘুরছেন পরিবারের সদস্যরা। অনেকেই মাথার উপর ছাদ হারিয়ে অস্থায়ী আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে ভূমিকম্পের ঘটনায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

নেপালের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে তিব্বতেও একাধিক ভূমিকম্পের খবর পাওয়া গিয়েছে। মঙ্গলবার নেপালের ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টা আগেই তিব্বতে ৫.৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয় বলে জানা যায়। ওই কম্পনের গভীরতা ছিল প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। এর আগে গত বৃহস্পতিবার তিব্বতে ৫ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্প হয়েছিল।

পরপর ভূমিকম্প এবং ভয়াবহ বন্যা-ধসের ঘটনায় গোটা হিমালয় অঞ্চল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামোর উপর নতুন কম্পনের প্রভাব কতটা পড়ে, তা নিয়েই এখন নজর। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের তরফে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

Leave a comment