কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলের বুকাভু শহরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হল ২৯ জনের। মৃতদের মধ্যে ২৬ জন পড়ুয়া বলে জানা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে চিমপুন্ডা এলাকায় একটি বাড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে উজামা প্রাইমারি স্কুল এবং ফুরাহা মাধ্যমিক স্কুলে। সেই সময় স্কুলে ক্লাস চলছিল। আগুন লাগার খবর পেয়েই পড়ুয়া ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে সকলে দ্রুত স্কুল থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু একসঙ্গে বহু পড়ুয়া বেরোতে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। 

স্থানীয় আধিকারিক পাত্রিস বুদুগে জানিয়েছেন, হুড়োহুড়ির মধ্যে কয়েক জন পড়ুয়া পদপিষ্ট হয়ে মারা যান। ঘন ধোঁয়ার কারণে অনেকে শ্বাসকষ্টে অসুস্থ হয়ে পড়েন। আগুনে ঝলসেও কয়েক জনের মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনার পর আহতদের উদ্ধারের কাজ শুরু হয়। স্থানীয় একটি ক্লিনিকের নার্স ক্রিস্টোফ জিগাশানে জানিয়েছেন, প্রায় ৫০ জন পড়ুয়া এবং কয়েক জন শিক্ষককে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল। অনেকেরই ধোঁয়ার কারণে শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছিল। কয়েক জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও কয়েক জনের মৃত্যু হয়।

অগ্নিকাণ্ডের জেরে স্কুল দু’টির পাশাপাশি আশপাশের বসতিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দক্ষিণ কিভু প্রদেশের উপ-রাজ্যপাল দুনিয়া মাসুমবুকো বুয়েংয়ে জানিয়েছেন, প্রায় ৩০০টি কাঠের বাড়ি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে।

কী কারণে আগুনের সূত্রপাত, তা এখনও জানা যায়নি। স্থানীয় পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বুকাভু বর্তমানে বিদ্রোহী গোষ্ঠী M23-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘাত চলছে। M23-এর তরফে জানানো হয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণকাজে জরুরি দল মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানতে তদন্ত চালানো হচ্ছে।

Leave a comment