উত্তরবঙ্গে ফের বৃষ্টির দাপট। রাতভর টানা বৃষ্টির জেরে দ্রুত বাড়তে শুরু করে বালাসন নদীর জলস্তর। জলের প্রবল স্রোতে ফের ভেসে গেল দুধিয়ার অস্থায়ী হিউমপাইপের সেতু। ফলে শিলিগুড়ি থেকে মিরিকের সড়ক যোগাযোগ নতুন করে ব্যাহত হয়েছে। আপাতত বেইলি ব্রিজ দিয়ে ছোট গাড়ি চলাচল করলেও বড় গাড়ির যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ।
বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই উত্তরবঙ্গের একাধিক এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। রাতভর বৃষ্টির কারণে নদী ও পাহাড়ি ঝোরাগুলিতে জল বাড়তে থাকে। বালাসন নদীর জলস্তরও ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় দুধিয়ার অস্থায়ী সেতুর উপর চাপ বাড়ে। একসময় প্রবল স্রোতের ধাক্কায় সেতুটি ভেসে যায়। কয়েক মাসের ব্যবধানে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে জুলাই মাসেও প্রবল বৃষ্টির সময় দুধিয়ার অস্থায়ী সেতু ভেসে গিয়েছিল। সেই সময় টানা বৃষ্টির পাশাপাশি মহানন্দার ফুলবাড়ি ব্যারেজের গেট খুলে দেওয়ায় বালাসন নদীতে জলস্তর আচমকা বেড়ে যায়। পরিস্থিতির জেরে শিলিগুড়ি-মিরিক সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেতু মেরামতির কাজ শুরু হয়। দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে সেনার উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছিল বেইলি ব্রিজ।
বর্তমানে ছোট গাড়ি সেই বেইলি ব্রিজ দিয়ে চলাচল করছে। তবে বড় গাড়ি বন্ধ থাকায় পণ্য পরিবহণে সমস্যা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি মিরিকগামী পর্যটকরাও সমস্যায় পড়তে পারেন। বর্ষাকালে পাহাড়ি এলাকায় ধসের আশঙ্কা থাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশ সংলগ্ন এলাকার নিম্নচাপ সরে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। নিম্নচাপটি কিছুটা দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ঝুঁকে রয়েছে। পাশাপাশি হরিয়ানা থেকে একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। অক্ষরেখাটি ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে গিয়েছে। এর প্রভাবেই রাজ্যের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টি হচ্ছে।
শুক্রবার জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে। শনিবার কালিম্পং ও জলপাইগুড়িতেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়াও বইতে পারে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সোমবার থেকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কমতে পারে। তবে তার আগে বৃষ্টি ও নদীর জলস্তরের পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে হবে। বিশেষ করে পাহাড়ি রাস্তা এবং নদী সংলগ্ন এলাকায় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Leave a comment