কলকাতা: শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি জন্মাষ্টমী ঘিরে প্রতি বছরই উৎসবের আবহ তৈরি হয় বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে।শঙ্খধ্বনি, কীর্তনের সুর, ফুলের গন্ধ আর আলোর ঝলকানি জন্মাষ্টমী এলেই এমনই এক উৎসবের আবহ তৈরি হয়।কোথাও সাজানো হয় গোপালকে, কোথাও কৃষ্ণের নানা মুহূর্ত তুলে ধরা হয়।
ছোট্ট লাড্ডু গোপালকে নতুন পোশাক, মুকুট, গয়না ও ফুল দিয়ে সাজিয়ে দোলনায় বসানো হয়। মন্দিরগুলিতে সেই সাজ আরও বড় আকার নেয়।বাংলায় জন্মাষ্টমী উদযাপনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকটি মন্দিরের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য পাঁচটি জায়গা হল—
মায়াপুরের ইসকন মন্দির: কৃষ্ণভক্তদের কাছে মায়াপুরের গুরুত্ব আলাদা। নদিয়ার এই তীর্থক্ষেত্রে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে প্রতিবছরই থাকে বড়সড় আয়োজন। উৎসবের আগে থেকেই গোটা মন্দির চত্বর সাজিয়ে তোলা হয় ফুল, আলো এবং নানা ধরনের বিশেষ সজ্জায়। জন্মাষ্টমীর দিন সকাল থেকে চলে কীর্তন, পুজো এবং বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এই সময় মায়াপুরে শুধু বাংলার বিভিন্ন জায়গা থেকেই নয়, দেশের অন্যান্য প্রান্ত এবং বিদেশ থেকেও ভক্তদের সমাগম হয়। মধ্যরাতে শ্রীকৃষ্ণের বিশেষ অভিষেককে ঘিরে থাকে ভক্তদের বিশেষ উন্মাদনা। প্রসাদ বিতরণও থাকে আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কলকাতার মিন্টো পার্কের ইসকন মন্দির: মায়াপুরের পাশাপাশি কলকাতার মিন্টো পার্ক এলাকার ইসকন মন্দিরেও জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন থাকে। পুণ্যতিথিতে সকাল থেকেই শুরু হয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান। পুজো ও কীর্তনের পাশাপাশি ভক্তদের জন্য প্রসাদের ব্যবস্থাও করা হয়।মন্দিরে বিশেষ আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জার মাধ্যমে তৈরি করা হয় উৎসবের পরিবেশ। সন্ধ্যার পর ভক্তদের আনাগোনা আরও বাড়ে।
গড়িয়ার শ্রী শ্রী রাধাবল্লভ মন্দির: দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়ার কাছে অবস্থিত শ্রী শ্রী রাধাবল্লভ মন্দিরের সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। জন্মাষ্টমীর দিনে এখানে শ্রীকৃষ্ণের বিশেষ পুজো-অর্চনার আয়োজন করা হয়। ফুল ও নানা ধরনের সাজসজ্জায় মন্দিরকে উৎসবের উপযোগী করে তোলা হয়। সকাল থেকেই ভক্তদের আনাগোনা শুরু হয়। জন্মাষ্টমীর পুণ্যতিথিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মানুষ মন্দিরে আসেন।
কলকাতার শ্রীকৃষ্ণ মন্দির: শহরের পরিচিত কৃষ্ণমন্দিরগুলির মধ্যে রয়েছে শ্রীকৃষ্ণ মন্দির। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে এখানে বিশেষ পুজো ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মন্দির চত্বরও সাজানো হয় বিশেষভাবে।শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথিতে পুজো দিতে ভক্তদের উপস্থিতি বাড়ে। প্রার্থনা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি মন্দিরের সাজসজ্জাও এই দিনের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে।
বর্ধমান রাজবাড়ির রাধাবল্লভ মন্দির: বর্ধমান রাজবাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রাধাবল্লভ মন্দির বাংলার ঐতিহ্যবাহী মন্দিরগুলির অন্যতম। দীর্ঘ ইতিহাসের সাক্ষী এই মন্দিরে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বিশেষ পুজো-অর্চনার আয়োজন করা হয়। জন্মাষ্টমীর দিন বর্ধমান শহর এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্তরা এখানে আসেন। দিনভর নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের কারণে মন্দির চত্বর হয়ে ওঠে জমজমাট। রাজবাড়ির ঐতিহ্যবাহী পরিবেশে কৃষ্ণের জন্মতিথি উদযাপনের আলাদা আকর্ষণ রয়েছে।
জন্মাষ্টমী বাংলার কাছে তাই শুধুই একটি ধর্মীয় তিথি নয়। এর সঙ্গে মিশে রয়েছে বহু পুরনো মন্দিরের ইতিহাস, পারিবারিক রীতি এবং মানুষের আবেগ। গোপালের শৃঙ্গার থেকে শুরু করে দোলনা, ফুলের সাজ, কীর্তন, ভোগ সবশেষে মধ্যরাতের জন্মক্ষণে বিশেষ পুজো ও অভিষেক। নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই বাংলায় উদযাপিত হয় নন্দলালের জন্মদিন। আর সেই উৎসবের আবহে মায়াপুর, কলকাতা ও বর্ধমানের এই কৃষ্ণমন্দিরগুলি হয়ে ওঠে ভক্তদের বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র।

Leave a comment