বেঙ্গালুরু: জ্যামের জেরে জীবন বরবাদ! বেঙ্গালুরুর কুখ্যাত সিল্ক বোর্ড জংশনে (Silk Board Junction) ঘটল এক নজিরবিহীন ঘটনা। গত সোমবার অফিস যাওয়ার পথে সিগন্যালে আটকে পড়েন সল্টলেকের ছেলে ও আইটি কর্মী অনির্বাণ চ্যাটার্জি। সিগন্যাল যখন লাল থেকে সবুজ হল, ততক্ষণে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি শেষ করে ফেলেছেন এবং অফিস থেকে তাঁর রিটায়ারমেন্টের নোটিশও চলে এসেছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, অনির্বাণ বাবু বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তাঁর ৩০ বছর বয়সে। উদ্দেশ্য ছিল হোয়াইটফিল্ডে নিজের অফিসে গিয়ে একটা আর্জেন্ট মিটিং ধরা। কিন্তু সিল্ক বোর্ডে আসতেই ট্রাফিক পুলিশ হাত দেখায়। সেই যে চাকা থামল, আর নড়ল না।

অনির্বাণ বাবু বলেন, “প্রথম দু’ঘণ্টা আমি গান শুনছিলাম। তারপরের তিন ঘণ্টা আমি গাড়িতে বসেই অনলাইনে ফ্রেঞ্চ ভাষা শিখলাম। যখন দেখলাম দুদিন কেটে গেছে কিন্তু গাড়ি এক ইঞ্চিও এগোয়নি, তখন ভাবলাম সময় নষ্ট করে লাভ নেই। গাড়ির ড্যাশবোর্ডে ল্যাপটপ খুলে ‘ট্রাফিক জ্যামে মানুষের ধৈর্য’—এই বিষয়ের ওপর গবেষণা শুরু করলাম। থিসিস জমা দিলাম, আর আজ সকালে সিগন্যাল খোলার ঠিক দু’মিনিট আগে ইউনিভারসিটি আমাকে ডক্টরেট উপাধি দিল।”

তবে ট্রাজেডি এখানেই শেষ নয়। গাড়ি স্টার্ট দেওয়ার মুহূর্তে তাঁর ফোনে অফিসের এইচ.আর (HR) ডিপার্টমেন্ট থেকে একটি মেল আসে। সেখানে লেখা ছিল, “প্রিয় অনির্বাণ, আপনার বয়স ৬০ পূর্ণ হওয়ায় আপনাকে কোম্পানি থেকে সসম্মানে অবসর দেওয়া হল। আপনার গ্র্যাচুইটির টাকা ফাসট্যাগে (FASTag) পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশের এক কর্তা হাসিমুখে জানান, “আমরা যাত্রীদের সুবিধার জন্য সিগন্যালগুলোতে এখন ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’-এর ব্যবস্থা করছি। অনির্বাণ বাবু ভাগ্যবান, অনেকে তো সিগন্যালে আটকে থেকেই নাতি-নাতনির মুখ পর্যন্ত দেখে ফেলেন।”

আপাতত অনির্বাণ বাবু গাড়ি ঘুরিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিয়েছেন, তবে গুগল ম্যাপ দেখাচ্ছে বাড়ি পৌঁছতে তাঁর আরও সাত বছর সময় লাগবে।

Leave a comment