নয়াদিল্লি: রবিবারই দুর্ঘটনার জেরে শিরোনামে রাজধানী। হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে পড়ুয়াদের পাঁচতলা মেসবাড়ি। এই ঘটনার জেরে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৬ জনের। ইতিমধ্যে এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোরগোল চরমে উঠেছে। তৎপর হয়ে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে দিল্লি পুরসভা। দিল্লিতে চারতলার চেয়ে উঁচু সমস্ত ধরনের অবৈধ নির্মাণ জরুরি ভিত্তিতে সিল করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি পুরসভা। এই মর্মে জারি করা হয়েছে লিখিত বিজ্ঞপ্তি।

বিজ্ঞপ্তিতে পুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, “চারতলার চেয়ে উঁচু সমস্ত অবৈধ নির্মাণ দ্রুত সিল করা হবে। যে সমস্ত আধিকারিকে অভিযুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। এমনকি তাঁদের তৎক্ষণাৎ বরখাস্তও করা হতে পারে।” এই নির্দেশ জরুরি ভিত্তিতে কার্যকরী করা হবে বলেও জানা গিয়েছে। 

পুরসভার প্রাথমিক রিপোর্টে ওই বাড়ির নির্মাণ নিয়ে একাধিক অনিয়মের কথা উঠে এসেছে। অনুমোদনের তুলনায় অতিরিক্ত তলা নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে বলেও অভিযোগ। তা ছাড়া, বসতবাড়িকে রাতারাতি বাণিজ্যিক প্রয়োজনে ব্যবহার করা শুরু হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। অথচ, সামনেই পুরসভার দফতর। কেন এত বছরে পুর কর্তৃপক্ষ বাড়ির অবস্থা যাচাই করতে এলেন না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। পুরসভার এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, ভেঙে পড়া ওই বাড়িটির কোনও অনুমোদিত নকশা ছিল না। বেসমেন্টে চলা নির্মাণ বা সংস্কারের কাজেরও অনুমতি ছিল না। 

দিল্লি পুরসভা জানিয়েছে, নির্মাণকাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর কোনও ভবনের বেসমেন্টে নতুন করে নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয় না। ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেই এই বিধি। এছাড়া এটি কতটা জমির উপর দাঁড়িয়ে, তার অনুপাত করে সেটির উচ্চতা বৃদ্ধির অনুমোদন দেওয়া হয়। সেই অনুপাতের হিসাবে ভেঙে পড়া বাড়িটির উচ্চতা চারতলার বেশি হতে পারে না বলে জানিয়েছেন পুর আধিকারিকেরা। 

উল্লেখ্য, রবিবার দুপুরে দিল্লির চাণক্যপুরীর কাছে মোতি বাগের সত্য নিকেতন এলাকায় ছাত্রদের একটি মেসবাড়ি ভেঙে পড়ে। ছ’জনের মৃত্যুর পাশাপাশি ১১ জন গুরুতর জখম হন। ধ্বংসস্তূপ পুরোপুরি সরানো যায়নি এখনও। তার নীচে আরও কেউ কেউ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা। সোমবার সকালেও সেখানে তল্লাশি চালাচ্ছেন দমকল এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলাকারী দল (এনডিআরএফ)-এর সদস্যেরা।

Leave a comment