ভারত-চিন সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এল কেন্দ্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বার্ষিক রিপোর্টে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা LAC-এর উত্তর সীমান্ত থেকে ধাপে ধাপে সেনা কমিয়েছে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি। অন্যদিকে, ভারতীয় সেনার মোতায়েন একই রয়েছে। সীমান্তে যে কোনও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারত প্রস্তুত বলেও জানানো হয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, বর্তমানে LAC-এর ওপারে প্রায় ১০টি কম্বাইন্ড আর্মস ব্রিগেড-আকারের চিনা বাহিনী রয়েছে। তারা নিয়মিত টহল চালাচ্ছে। অর্থাৎ চিন পুরোপুরি সেনা সরিয়ে নেয়নি, তবে আগের তুলনায় তাদের সামরিক উপস্থিতি কমেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা কূটনৈতিক ও সামরিক আলোচনার পরেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
পূর্ব লাদাখে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ২৩তম কোর কমান্ডার স্তরের বৈঠক হয়। এরপরই ধাপে ধাপে চিনা সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয় বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকেও সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল।
জম্মু ও কাশ্মীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও রিপোর্টে কিছুটা স্বস্তির ছবি তুলে ধরা হয়েছে। গত এক বছরে পাথর ছোড়ার ঘটনা শূন্যে নেমেছে। বিক্ষোভের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে নিয়ন্ত্রণরেখা দিয়ে অনুপ্রবেশের ছয়টি চেষ্টা হয়েছিল। ওই সময়ে ১২ জন কাশ্মীরি জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে।
তবে সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘনের সংখ্যা বেড়েছে। ২০২৪ সালে মাত্র দু’টি ঘটনা থাকলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে ১৬৩ হয়েছে। এর মধ্যে ১২৪টি ঘটনা অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন ঘটেছে।
এদিকে পশ্চিম সীমান্তে ড্রোন অনুপ্রবেশও বড় উদ্বেগের কারণ। ২০২৫ সালে ৮৬৩টি ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। ২৩৭টি ড্রোন ভূপতিত করা হয়। উদ্ধার হয়েছে দু’টি AK-47, ৭৫টি পিস্তল এবং ২৮১ কেজি মাদক। তাই LAC-এ স্বস্তি এলেও সামগ্রিক সীমান্ত নিরাপত্তায় সতর্ক রয়েছে ভারত।

Leave a comment