দীর্ঘ কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর ফের ভারতের মাটিতে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। শনিবার দুপুরে দিল্লিতে পৌঁছন তিনি। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন চিনা কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতা কাই কি এবং ওয়াং ই।বিমানবন্দরে জিনপিংকে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতিন প্রসাদ।

জিনপিংয়ের এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ২০১৯ সালের পর এই প্রথম তিনি ভারতে এলেন। গত কয়েক বছরে ভারত ও চিনের সম্পর্কে একাধিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বজায় রয়েছে। অরুণাচল প্রদেশ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।

এই আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে জিনপিংয়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকে সীমান্ত সমস্যা এবং প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। পাশাপাশি সীমান্তে ভবিষ্যতে সংঘর্ষ এড়ানো এবং দুই দেশের মধ্যে আস্থা ফেরানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

তবে আলোচনার পরিধি শুধু সীমান্তেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। প্রতিরক্ষা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং ভারত-চিনের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা পুনরায় চালু করার মতো বিষয়ও বৈঠকে উঠতে পারে। দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও স্বাভাবিক করার বিষয়েও মতবিনিময় হতে পারে।

জিনপিংয়ের দিল্লি সফরের আগে চিনের রাষ্ট্রদূত জু ফেইহংয়ের বক্তব্যে সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত মিলেছে। তিনি দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলেছেন। একইসঙ্গে মতপার্থক্য যথাযথভাবে সামলে নেওয়ার বার্তাও দিয়েছেন।

কূটনৈতিক মহলের মতে, একদিনের বৈঠকে ভারত-চিন সীমান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান পাওয়া কঠিন। তবে দুই রাষ্ট্রনেতার সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্কের বরফ গলানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। গালওয়ানের পর তৈরি হওয়া অবিশ্বাস কাটিয়ে দুই দেশ ভবিষ্যতে কোন পথে এগোয়, তার ইঙ্গিত এই বৈঠক থেকে পাওয়া যেতে পারে।

Leave a comment