প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুম্বই সফরের আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বান্দ্রা-কুর্লা কমপ্লেক্সে গ্লোবাল ফিনটেক ফেস্টে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির কথা ছিল। তার আগেই অনুষ্ঠানস্থলের ভিভিআইপি এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে মুম্বই পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে একজন নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা পিএমও-র আধিকারিক বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। অন্য যুবকের কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
জানা গিয়েছে, অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে দুই যুবক ভিভিআইপি জোন দিয়ে ভিতরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের গতিবিধি নিরাপত্তারক্ষীদের নজরে আসে। সন্দেহ হওয়ায় দু’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়।
পুলিশের দাবি, রোহন পারেখ নামে এক যুবক নিজেকে পিএমও-র আধিকারিক বলে পরিচয় দেন। নিরাপত্তারক্ষীরা পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তিনি একটি আইডি কার্ড দেখান।
তবে সেটির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। প্রাথমিক যাচাইয়ের পর পরিচয়পত্রটি ভুয়ো হতে পারে বলে মনে করা হয়। এরপরই রোহনকে গ্রেফতার করা হয়। তার সঙ্গে থাকা অপর যুবক নিজেকে বডিগার্ড হিসেবে পরিচয় দেন। কিন্তু নিজের পরিচয়ের সমর্থনে বৈধ কোনও নথি দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ। এরপর তার দেহে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলে জানা যায়। এরপর তাকেও গ্রেফতার করা হয়।
ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। কড়া নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে দুই যুবক ভিভিআইপি জোনের কাছে পৌঁছলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং ভুয়ো পরিচয়পত্র ব্যবহারের কারণই বা কী, সেই বিষয়েও তদন্ত চলছে।
অন্যদিকে, উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের মোবাইল ফোন ও যোগাযোগের তথ্য পরীক্ষা করে তাদের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত ছিলেন কি না, তা জানার চেষ্টা করছে। মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনাটিকে কোনও বড় ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন না তদন্তকারীরা।

Leave a comment