দেশের দ্রুতগতির রেল পরিষেবার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে রাশিয়ার প্রস্তাব। ভারতের জন্য ‘ইভলগা FG’ নামে একটি হাই-স্পিড ট্রেনের প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। প্রস্তাবিত ট্রেনটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ফলে ভারতের হাই-স্পিড রেল ব্যবস্থায় ভবিষ্যতে রুশ প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে রাশিয়ার ট্রান্সমাসহোল্ডিং এবং ভারতের রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড বা RVNL-এর যৌথ উদ্যোগ কিনেট রেলওয়ে সলিউশনস। এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতে ট্রেন উৎপাদন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র বিদেশ থেকে ট্রেন এনে পরিষেবা চালুর বদলে দেশে উৎপাদনের দিকটিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ইভলগা FG ট্রেনে আটটি কোচ থাকবে এবং এতে প্রায় ৬৪২ জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। এর পাশাপাশি ভারতে উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রায় ৮০ শতাংশ দেশীয়করণের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ট্রেনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দেশীয়ভাবে তৈরির সুযোগ বাড়বে এবং হাই-স্পিড রেল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতের উৎপাদন ক্ষমতাও শক্তিশালী হতে পারে।

কিনেট রেলওয়ে সলিউশনস ইতিমধ্যেই বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন তৈরির সঙ্গে যুক্ত। ফলে ভারতীয় রেলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে সংস্থাটির। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রুশ প্রযুক্তি ও ভারতীয় উৎপাদন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

ভারতের ভবিষ্যৎ হাই-স্পিড রেল পরিকল্পনার মধ্যে Project B35-এর কথাও উঠে আসছে। যদিও ইভলগা FG-কে এখনও কোনও নির্দিষ্ট প্রকল্পের জন্য চূড়ান্তভাবে বেছে নেওয়া হয়নি। আপাতত রাশিয়ার প্রস্তাবটি মূল্যায়নের পর্যায়ে রয়েছে।

হাই-স্পিড ট্রেনের ক্ষেত্রে শুধু সর্বোচ্চ গতিই যথেষ্ট নয়। ভারতীয় রেল পরিকাঠামোর সঙ্গে ট্রেনটির সামঞ্জস্য, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সিগন্যালিং প্রযুক্তি, প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেশন এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচও গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে ৮০ শতাংশ দেশীয়করণের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবে কতটা অর্জন করা সম্ভব, তাও যাচাই করতে হবে।

Leave a comment