আমরা কি এখনও নিজেদের ৯০স কিডস বলতে পারি?

কলকাতা, বিশেষ প্রতিনিধি: সময় বদলেছে, মানুষ বদলেছে, মোবাইল বদলেছে—কিন্তু একটাই জিনিস বদলায় না: ৯০স কিডসদের নিজেদের নিয়ে গর্ব করার অদম্য ইচ্ছা। কিন্তু প্রশ্ন হলো—আমরা কি এখনও নিজেদের ৯০স কিডস বলতে পারি? নাকি আমরা এখন “৯০স কিডস (with knee pain)” ক্যাটেগরিতে পড়ি?

নস্টালজিয়া বনাম বাস্তবতা

৯০স কিডসদের দাবি—

  • আমরা কার্টুন নেটওয়ার্কের আসল যুগ দেখেছি
  • আমরা ফ্লপি ডিস্ক ধরেছি
  • আমরা ইন্টারনেটের জন্য ফোন লাইন দখল করেছি
  • আমরা টেপ রিওয়াইন্ড করেছি
  • আর আমরা জানি, ম্যাগি ২ মিনিটে হয় না

কিন্তু বাস্তবতা হলো— এখন আমরা হাঁটুতে বাম লাগাই, রাতে ১১টার পর জেগে থাকতে পারি না, আর হঠাৎ করে কোমরে ব্যথা উঠলে বলি, “বোধহয় ঠান্ডা লেগেছে।”

৯০স কিডসদের নতুন পরিচয়: Nostalgia Influencers

আজকের দিনে ৯০স কিডসরা এক ধরনের “নস্টালজিয়া ইনফ্লুয়েন্সার”— যে কোনো আলোচনায় হঠাৎ বলে ওঠে, “আমাদের সময় এমন ছিল না।” “আমাদের সময় ৫ টাকার মধ্যে সবকিছু হয়ে যেত।” “আমাদের সময়কার কার্টুনই আসল কার্টুন।”

এমনকি কেউ কেউ দাবি করেন, ৯০স কিডসরা নাকি “শেষ পিওর জেনারেশন”—যদিও এই দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, শুধু আবেগ আছে।

প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্ক: জটিল ও নাটকীয়

৯০স কিডসরা প্রযুক্তির সঙ্গে এক অদ্ভুত সম্পর্ক বজায় রাখে। তারা স্মার্টফোন ব্যবহার করে, কিন্তু রাগ করে বলে— “আগে সবকিছু সহজ ছিল।” তারা নেটফ্লিক্স দেখে, কিন্তু বলে— “আমাদের সময়কার সিরিয়ালই আসল সিরিয়াল।” তারা রিল বানায়, কিন্তু বলে— “আমরা তো এসবের জন্য জন্মাইনি।”

তাহলে কি আমরা এখনও ৯০স কিডস?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৯০স কিডস হওয়া কোনো বয়স নয়—এটা এক ধরনের মানসিক অবস্থা। যে মানুষ আজও—

  • লাল-নীল কলম দেখে খুশি হয়
  • পুরনো বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেল গেয়ে ফেলে
  • টিভির অ্যান্টেনা ঠিক করার স্মৃতি মনে করে
  • আর “শক্তিমান” শুনলে বুকের ভেতর হালকা কম্পন অনুভব করে

তারা আজও ৯০স কিডস—বয়স যাই হোক না কেন।

শেষ কথা

তাই প্রশ্নটা আসলে খুব সহজ: আমরা কি এখনও নিজেদের ৯০স কিডস বলতে পারি? উত্তর— হ্যাঁ, অবশ্যই পারি। যতদিন আমরা নস্টালজিয়াকে Wi‑Fi ছাড়াই চালাতে পারি, ততদিন আমরা ৯০স কিডসই থাকব।

Leave a comment