দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরের নয়া বাজারের বিখ্যাত ক্ষীর দই এবার জিআই ট্যাগ পেতে চলেছে। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, স্বতন্ত্র স্বাদ এবং বিশেষ তৈরির পদ্ধতির কারণে এই দইয়ের আলাদা পরিচিতি রয়েছে। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি কলকাতা ও বিহারেও নয়া বাজারের দইয়ের চাহিদা রয়েছে। জিআই স্বীকৃতি মিললে এবার দেশ-বিদেশের বাজারে এর পরিচিতি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ী ও কারিগররা।
নয়া বাজার এলাকায় প্রায় ৫০ জন বড় দই ব্যবসায়ী রয়েছেন। পাশাপাশি সুথল, যাদববাটি, সায়রাপুর ও দকলাইন-সহ আশপাশের এলাকার শতাধিক মানুষ এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বহু পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দই তৈরির কাজ করে আসছে। ফলে নয়া বাজারের দই শুধু একটি খাদ্যপণ্য নয়, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের জীবিকারও অন্যতম মাধ্যম।
দই তৈরির মূল উপকরণ দুধ সংগ্রহের জন্য প্রতিদিন নয়া বাজারে বসে দুধের হাট। গ্রামের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দুধ নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা। দূরদূরান্ত থেকেও বহু মানুষ এই হাটে দুধ বিক্রি করতে আসেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার লিটার দুধ কেনাবেচা হয়। প্রতি লিটার ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে দুধ কিনে তা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের দই তৈরি করেন কারিগররা।
নয়া বাজারে ক্ষীর দই, খাসা দই ও সাধারণ দই তৈরি হয়। ক্ষীর দইয়ের বর্তমান দাম প্রায় ৩৫০ টাকা কেজি। খাসা দই ২৫০ টাকা এবং সাধারণ দই ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। বিশেষ অর্ডার পেলে চন্দ্রচূড় দইও তৈরি করা হয়। তার দাম প্রায় ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি।
কারিগরদের দাবি, নয়া বাজারের দইয়ের বিশেষত্ব এর প্রস্তুত প্রণালীতে। দুধকে প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে ফুটিয়ে ঘন করা হয়। এরপর নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে দই বসানো হয়। বাংলাদেশের বগুড়ার পর পশ্চিমবঙ্গে নয়া বাজারেই বিশেষ ‘ঢাকা পদ্ধতি’-তে দই তৈরির প্রচলন রয়েছে বলে তাঁদের দাবি।
ইতিমধ্যেই কলকাতা ও বিহারে পাঠানো হয় এই দই।
ব্যবসায়ীদের দাবি, আমেরিকা ও দুবাইয়েও নয়া বাজারের দইয়ের সুনাম পৌঁছেছে। জিআই ট্যাগ মিললে বিদেশের বাজারে স্বতন্ত্র পরিচিতি তৈরি করা সহজ হবে। পাশাপাশি চাহিদা ও উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

Leave a comment