জিটিএ-র দুর্নীতি নিয়ে ফের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখে তদন্ত হবে, প্রয়োজন হলে এফআইআর দায়ের করা হবে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হবে বলেও কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ হওয়া সরকারি অর্থও উদ্ধার করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে পাহাড়ের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে কালিম্পং সফরে বাধা তৈরি হয়। পাহাড়ি এলাকায় ঘন কুয়াশার কারণে কপ্টার অবতরণ করতে পারেনি। বেশ কিছুক্ষণ আকাশে চক্কর কাটার পর কপ্টারটি শিলিগুড়িতে ফিরে আসে। পরে উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পাহাড়ের আধিকারিকদের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।
জিটিএ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, অতীতে একাধিক বোর্ডের টাকা নয়ছয় হয়েছে। পানীয় জল, শিক্ষক নিয়োগ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। পাহাড়ের উন্নয়নের অর্থ কোথায় এবং কীভাবে খরচ হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
অন্যদিকে, পাহাড়ের উন্নয়নে বড় অঙ্কের বরাদ্দের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। জিটিএ-র বাজেট দ্বিগুণ করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পাহাড়ে ভারী বৃষ্টি ও ধসের পরিস্থিতি নিয়েও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। তিস্তার পরিস্থিতির পাশাপাশি মালদহের বন্যা নিয়েও খোঁজ নেন মুখ্যমন্ত্রী।
কালিম্পংয়ে মেডিক্যাল কলেজ তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য ভূমিপুজো করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্য পরিষেবার পাশাপাশি পাহাড়বাসীর সামাজিক সুরক্ষার বিষয়েও একাধিক পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে ১২৩ জন রোগী আয়ুষ্মান কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসা পেয়েছেন। যাঁরা এই কার্ডের আওতায় আসতে পারবেন না, তাঁদের মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি পাহাড়ে এখনও পর্যন্ত ১৫ হাজার মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়েছেন। আগামী দিনে আরও মহিলাকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ফলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের বার্তার পাশাপাশি পাহাড়ের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিতেও জোর দেওয়ার বার্তা দিল রাজ্য সরকার।

Leave a comment