ইনস্টাগ্রামে আলাপ। তার পর বিদেশে পড়াশোনা এবং চাকরির প্রলোভন। সেই প্রলোভনে বিশ্বাস করেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে কলকাতায় চলে এসেছিল হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের এক নাবালিকা। নিউ মার্কেট এলাকার একটি হোটেলে ওঠার পর পরিবারের কাছে আসে ৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপণের দাবি। টাকা না দিলে মেয়েকে খুন করার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত পুলিশের তৎপরতায় হোটেলের ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রীকে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করেছিল একটি অপরাধী চক্র। বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ এবং চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার বিশ্বাস অর্জন করা হয়। এরপর কলকাতায় আসতে বলা হয় তাকে। গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঙ্গে নিয়ে জগৎবল্লভপুরের শংকরহাটি ২ নম্বর এলাকার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় কিশোরী।

ধর্মতলায় পৌঁছনোর পর একটি গাড়িতে করে তাকে নিউ মার্কেট এলাকার হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, কিশোরীর কলকাতায় আসার আগেই ওই গাড়ির ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছিল। হোটেলে একাই একটি ঘর নেয় সে। এরপরই তার মোবাইল ফোন হ্যাক করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযুক্তরা বলে অভিযোগ।

পরিবারের কাছে ফোন করে ৩ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে মেয়েটিকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। মেয়ের কোনও খোঁজ না পেয়ে ৭ সেপ্টেম্বর জগৎবল্লভপুর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছিল পরিবার। পরে মুক্তিপণের ফোন পাওয়ার পর পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।

অভিযোগ পেয়েই তদন্তে নামে হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশের সাইবার সেল। জেলা পুলিশের পদস্থ আধিকারিকদের পাশাপাশি চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির সঙ্গেও সমন্বয় করা হয়। মুক্তিপণের ফোনে ব্যবহৃত নম্বরের সূত্র ধরে তদন্তকারীরা কিশোরীর অবস্থান শনাক্ত করেন।

জানা যায়, নিউ মার্কেট থানা এলাকার একটি হোটেলে রয়েছে সে। বুধবার রাতে সেখানে অভিযান চালিয়ে নাবালিকাকে উদ্ধার করে পুলিশ। তখন ঘরে অভিযুক্ত চক্রের কেউ ছিল না।

প্রাথমিক তদন্তে বিহার, উত্তরপ্রদেশ অথবা হরিয়ানা থেকে পরিচালিত একটি আন্তঃরাজ্য অপরাধী চক্রের যোগসূত্রের সন্দেহ করছে পুলিশ। অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি এবং খুনের হুমকি-সহ একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নাবালিকাকে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে পেশ করা হয়।

Leave a comment