কৌশিকী অমাবস্যাকে ঘিরে তারাপীঠে ভক্তদের বিপুল সমাগম। পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে এবার একাধিক আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে প্রশাসন। মন্দির চত্বর, মেলা প্রাঙ্গণ এবং সংলগ্ন এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।
প্রায় ৪ হাজার পুলিশকর্মীকে নিরাপত্তার কাজে মোতায়েন করা হয়েছে। ১১টি ওয়াচ টাওয়ার থেকে ভিড়ের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রায় ৪০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়। ভিড়ের মধ্যে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে ফেস রেকগনিশন ক্যামেরাও ব্যবহার করা হচ্ছে। ড্রোনের সাহায্যে আকাশপথে গোটা এলাকার উপর নজর রাখছে প্রশাসন।
সম্প্রতি তারাপীঠের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর ঘটনার পর অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রায় ২০০ দমকলকর্মী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আটটি ফায়ার রোবট রাখা হয়েছে, যাতে আগুন লাগার মতো পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ করা যায়।
৯ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৫ সদস্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দলও প্রস্তুত থাকবে। কোনও দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করার জন্য এই দলকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় রাখা হচ্ছে।
পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য এবার চালু করা হয়েছে ডিজিটাল রুটম্যাপ। কিউআর কোড স্ক্যান করে মেলা প্রাঙ্গণে পৌঁছনোর পথ জানতে পারবেন ভক্তরা। ফলে অপরিচিত এলাকায় পথ হারানোর সমস্যা কিছুটা কমবে বলে মনে করছে প্রশাসন।
কৌশিকী অমাবস্যার সকালে রামপুরহাট রেল স্টেশন থেকে তারাপীঠ পর্যন্ত হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টিও করা হয়েছে। তবে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে দিনভর গর্ভগৃহে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বাইরে থেকেই মা তারাকে দর্শন করছেন পুণ্যার্থীরা। উৎসব নির্বিঘ্নে শেষ করাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

Leave a comment