দেশজুড়ে প্রতারণার জাল ছড়ানোর অভিযোগে দুর্গাপুর থেকে চার যুবককে গ্রেফতার করল পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দুর্গাপুর স্টেশন বাজার সংলগ্ন সাধুডাঙা এলাকার একটি হোটেলে অভিযান চালায় কোকওভেন থানার পুলিশ। সেখান থেকেই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ডের জামতাড়া-ভিত্তিক প্রতারণা চক্রের সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতরা প্রত্যেকেই ঝাড়খণ্ডের দেওঘর জেলার মধুপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁদের নাম গণেশ সদ্দার, সচিন দাস, জিতেন্দ্র কুমার দাস এবং সুরেন্দ্র দাস। তাঁদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, এটিএম কার্ড-সহ একাধিক সামগ্রী ও গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করা হয়েছে।

তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, হোটেলের ঘর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে ফোন অথবা ডিজিটাল মাধ্যমে টার্গেট করা হত। বিভিন্ন কৌশলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে তাঁদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হত বলে সন্দেহ পুলিশের।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা কোনও একটি হোটেলে দীর্ঘদিন থাকতেন না। পুলিশের নজর এড়াতে ঘনঘন হোটেল বদল করতেন বলে অভিযোগ। এক জায়গায় কয়েকদিন থাকার পর অন্যত্র গিয়ে ফের প্রতারণার কাজ চালানো হত বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

শেষ পর্যন্ত গোপন সূত্রে তাঁদের অবস্থানের খবর পায় পুলিশ। এরপর সাধুডাঙার ওই হোটেলে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপের তথ্য পরীক্ষা করে প্রতারণার নেটওয়ার্কের সন্ধান চালানো হচ্ছে।

আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার (পূর্ব) রাসপ্রিত সিং জানিয়েছেন, ধৃত চারজনই দেওঘরের বাসিন্দা। হোটেল থেকেই প্রতারণার কাজ চলছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। বিভিন্ন হোটেলে পুলিশের অভিযান চলাকালীনই এই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

ধৃতদের সঙ্গে আরও কারা যুক্ত, দেশের কোন কোন এলাকায় তাঁদের যোগাযোগ রয়েছে এবং প্রতারণার টাকা কোথায় লেনদেন করা হত এসব খতিয়ে দেখছে পুলিশ। একইসঙ্গে জামতাড়া-ভিত্তিক কোনও চক্রের সঙ্গে তাঁদের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল ডিভাইস থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছেন তদন্তকারীরা। সেই সূত্রে এই প্রতারণা চক্রের আরও সদস্যের সন্ধান মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a comment