আলু উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এবার আলুবীজের ক্ষেত্রেও আত্মনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে বড় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উন্নতমানের ও রোগমুক্ত আলুবীজ উৎপাদনের জন্য রাজ্যেই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গবেষণা এবং উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে কৃষকদের কাছে ভালো মানের রোপণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন ও আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

এই প্রকল্পে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে হিমাচল প্রদেশের শিমলায় অবস্থিত আইসিএআর-সেন্ট্রাল পটেটো রিসার্চ ইনস্টিটিউট বা সিপিআরআই। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের পশ্চিমবঙ্গ সফরের সময় আলুবীজ উৎপাদন সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত সহযোগিতার জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে। এবার সেই চুক্তির ভিত্তিতে গবেষণার জন্য বিশেষ টিম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সিপিআরআই-এর অধিকর্তা ড. ব্রজেশ সিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, হাইটেক বীজ উৎপাদন, টিস্যু কালচার এবং অ্যারোপনিক্স প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর ও উন্নতমানের আলুবীজ তৈরি করা সম্ভব। রোগমুক্ত রোপণ সামগ্রী ব্যবহার করলে আলুর উৎপাদনশীলতা বাড়ার পাশাপাশি ফসলের গুণমানও উন্নত হতে পারে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, গবেষণার কাজকে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ এই দুই ভাগে ভাগ করা হবে। বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের মাটি, জলবায়ু ও কৃষি পরিবেশের বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে আলুবীজ নিয়ে গবেষণা চালানো হবে। স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে মানানসই বীজ তৈরি করাই থাকবে অন্যতম লক্ষ্য। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে আলুবীজের জন্য পাঞ্জাবের উপর নির্ভর করতে হয়। অতীতে হিমাচল প্রদেশের শিমলা থেকেও সরকারি ব্যবস্থায় বীজ আসত। সেই সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বাইরের রাজ্য থেকে বীজ আনতে হচ্ছে। ফলে বীজের পাশাপাশি পরিবহণ খরচও বাড়ে।

রাজ্যের মধ্যেই আলুবীজ গবেষণা ও উৎপাদন শুরু হলে পরিবহণ ব্যয় কমার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত বীজ সরবরাহ করা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আলু উদ্ভিজ্জ প্রজনন পদ্ধতিতে উৎপাদিত হওয়ায় রোগমুক্ত বীজের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। তাই এই উদ্যোগ সফল হলে বাংলার আলুচাষে ফলন ও কৃষকের আয় দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

Leave a comment