কলকাতা: জঞ্জালমুক্ত শহর গড়ে তোলার পাশাপাশি বর্জ্যকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলার উপর এবার আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে রাজ্য সরকার। ডাম্পিং গ্রাউন্ডে বছরের পর বছর বর্জ্য জমিয়ে রাখার পরিবর্তে তা দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই লক্ষ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা এলাকায় তৈরি হচ্ছে একাধিক ওয়েস্ট প্রসেসিং প্লান্ট।

পুর দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই রাজ্যের ১৬টি পুরসভা এলাকায় ওয়েস্ট প্রসেসিং প্লান্ট চালু রয়েছে। প্রতিদিন পুর এলাকা থেকে সংগৃহীত বর্জ্য এই কেন্দ্রগুলিতে নিয়ে গিয়ে প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে। তবে বর্তমান পরিকাঠামো দিয়ে রাজ্যের সামগ্রিক বর্জ্য সমস্যার মোকাবিলা করা সম্ভব নয় বলে মনে করছে প্রশাসন। তাই আরও ৬৭টি প্লান্টের নির্মাণকাজ চলছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের মধ্যে নির্মীয়মাণ এই কেন্দ্রগুলি চালু করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৩২টি নতুন ওয়েস্ট প্রসেসিং প্লান্ট তৈরির উদ্যোগও খুব শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে। এর ফলে বিভিন্ন পুরসভা এলাকায় প্রতিদিনের বর্জ্য দ্রুত সরিয়ে প্রক্রিয়াকরণ করা সম্ভব হবে। কমবে ডাম্পিং গ্রাউন্ডের উপর চাপও।

পুর দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্জ্যকে শুধুমাত্র ফেলে দেওয়ার সামগ্রী হিসেবে না দেখে তার পুনর্ব্যবহারযোগ্য অংশ কাজে লাগানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। প্লাস্টিক, ধাতু, কাগজ-সহ বিভিন্ন সামগ্রী আলাদা করে পুনর্ব্যবহারের উপযোগী করা সম্ভব। একইসঙ্গে জৈব বর্জ্য থেকে জৈব সার ও বায়োগ্যাস তৈরির সুযোগ রয়েছে। পুরনো ডাম্পিং গ্রাউন্ডে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ‘লিগ্যাসি ওয়েস্ট’ নিয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পুরনো বর্জ্য সরিয়ে জমি পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত জমি ভবিষ্যতে কাজে লাগানো সম্ভব হতে পারে।

বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থাকেও আরও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে রাজ্যের পুর এলাকায় প্রায় ৭৫ হাজার নির্মল বন্ধু এবং ৬ হাজার নির্মল সাথী কাজ করছেন। বাড়ি-বাড়ি বর্জ্য সংগ্রহের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে বর্জ্য আলাদা করে রাখার বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে। উৎসস্থলেই ১০০ শতাংশ বর্জ্য পৃথকীকরণ নিশ্চিত করাই এখন অন্যতম লক্ষ্য। 

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, ই-বর্জ্য ও ধাতব সামগ্রী সাধারণ জঞ্জালের সঙ্গে মিশে গেলে দূষণের আশঙ্কা বাড়ে। তাই শুরুতেই সেগুলি আলাদা করা প্রয়োজন। সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দূষণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান এবং রাজস্ব আয়ের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।

Leave a comment