নয়াদিল্লি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর সুযোগ পাচ্ছেন বাংলার মহিলারা৷ মাসে মাসে ১৫০০ টাকা ঢুকছে মহিলাদের। তবে তাতেও খুঁত ধরতে সিদ্ধহস্ত বিরোধীরা। এই প্রকল্প নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধী পক্ষ। অথচ এহেন প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দিয়েই বহু রাজ্যে সরকার গড়েছে পদ্ম শিবির। কিন্তু ক্ষমতা দখল হলেই সেই প্রতিশ্রুতি ভুলে গিয়েছে তাদের সরকার। খোদ রাজধানী দিল্লিতেই এখনও চালু হল না ‘মহিলা সম্মান যোজনা’!
জানা যাচ্ছে, দিল্লিতে এখনও চালু হয়নি মহিলাদের জন্য এই প্রকল্প। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর পদে একজন মহিলা থাকা সত্ত্বেও মহিলাদের হাতে এখনও পৌঁছল না প্রতিশ্রুতির ২৫০০ টাকা। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন দলের দীর্ঘদিনের নেত্রী রেখা গুপ্তা। তিনি কুর্সিতে বসে শর্তসাপেক্ষে মহিলাদের মাসে মাসে ২৫০০ টাকা ভাতা ঘোষণা করেছিলেন। তার গালভরা নাম দেওয়া হয় ‘মহিলা সম্মান যোজনা’। তবে তা এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি। তৃণমূলের কটাক্ষ, এটাই বিজেপির ‘জুমলাবাজি’।
যাদের পরিবারের মাসিক আয় আড়াই লক্ষ টাকার কম, সেসব পরিবারের সদস্য ২১ থেকে ৬৫ বছর বয়সি মহিলারা মাসে ২৫০০ টাকা পাবেন, এই শর্তে মহিলা সম্মান যোজনা ঘোষণা করা হয়েছিল। তারও সমালোচনা হয়েছিল। কারণ, বাংলায় ধনী-দরিদ্র-মধ্যবিত্ত নির্বিশেষে সকল মহিলাই এই প্রকল্পের আওতায় ভাতা পান। কথা ছিল, আন্তর্জাতিক নারী দিবস, ৮ মার্চ থেকে তা চালু হবে। কিন্তু নির্ধারিত দিন দূরঅস্ত, রেখা গুপ্তার ওই প্রতিশ্রুতির পর বছর গড়িয়ে যেতে চলল। কিন্তু দিল্লির কোনও মহিলা হাতে ওই টাকা পাননি।
শুধু দিল্লি নয়, বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আদলে মহিলাদের আর্থিক স্বাবলম্বী করার কথা দিয়ে মধ্যপ্রদেশে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। হিমাচল প্রদেশের কংগ্রেস সরকারও এমন এক প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু এই প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার ঘোষণা অনুযায়ী দ্রুত কাজ হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী বাজেটে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের অর্থ বাড়ানোর ঘোষণা হয়েছে। তা কার্যকরীও হতে শুরু করেছে।

Leave a comment