বীরভূমের সিউড়ির বাসিন্দা অর্ধেন্দু সিনহার মেয়ে অমৃতা গত মার্চ মাস থেকে নিখোঁজ। বয়স ২৪ বছর। দীর্ঘ ছয় মাস ধরে মেয়ের সন্ধান না পেয়ে এবার মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে হাজির হলেন অর্ধেন্দু ও তাঁর স্ত্রী সুপ্রিয়া। সেখানে মেয়ের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বৃদ্ধ বাবা-মা।
অর্ধেন্দুর দাবি, মেয়েকে খুঁজে পেতে সিউড়ি থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার কাছেও সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত অমৃতার কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মেয়েকে খুঁজতে নিজেই রাস্তায় নেমেছেন অর্ধেন্দু। গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে বীরভূমের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরেছেন। মেয়ের সন্ধানে কলকাতায়ও এসেছেন তিনি। আবার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির ফোন পেয়ে আসানসোলেও ছুটে গিয়েছেন। কয়েক দিন আগে তারাপীঠে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টাও করেছিলেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে তখন সাক্ষাৎ সম্ভব হয়নি।
এরপর জনতার দরবারে দেখা করার জন্য আবেদন করেন অর্ধেন্দু। মঙ্গলবার রাতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বুধবার সকালে সল্টলেকে পৌঁছন তিনি ও তাঁর স্ত্রী। ভোর সাড়ে ৫টার ট্রেনে সিউড়ি থেকে রওনা হয়েছিলেন তাঁরা।
জনতা দরবারে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে মেয়েকে খুঁজে দেওয়ার কাতর আবেদন জানান অর্ধেন্দু বাবু। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে অমৃতাকে খুঁজে বের করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই আশ্বাসে নতুন করে আশার আলো দেখছেন বৃদ্ধ বাবা।
অমৃতার মা সুপ্রিয়া দেবী জানান, সংসারে আর্থিক সমস্যা ছিল। তাঁর ও স্বামীর শারীরিক সমস্যার কারণে অমৃতা কাজ করার কথা ভাবত। সেই চিন্তা থেকেই হয়তো সে কোথাও চলে গিয়েছে বলে পরিবারের ধারণা।
অমৃতার সন্ধানে জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল কাজ করছে। তদন্তে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ এবং সিআইডির সাহায্যও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও মেলেনি তরুণীর হদিশ। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পর এবার মেয়েকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছে পরিবার।

Leave a comment