জমি দুর্নীতি এবং চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণা সহ একাধিক মামলায় অভিযুক্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের খোঁজ চালাচ্ছিল পুলিশ ও সিআইডি। তাঁর বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিসও জারি করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন আড়ালে ছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট সুমিত রায়ের রক্ষাকবচ বাতিল করতেই তৎপর হয় সিআইডি। এক ঘণ্টার মধ্যেই একেবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছয় গোটা ফোর্স। অভিষেকের বাড়িতেই সুমিত রায় রয়েছেন বলে ধারণা করেন আধিকারিকরা।

দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ ও সিআইডি তাঁর খোঁজ করছিল। এমনকি তাঁর সন্ধানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ি, বেহালার বাসভবন এবং হুগলির শ্রীরামপুরে সুমিতের শ্বশুরবাড়িতেও গভীর রাতে তল্লাশি অভিযান চালায় রাজ্য পুলিশ ও এসটিএফ। অবশেষে গ্রেফতার করা হল সুমিত রায়কে। 

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম সুমিত রায়ের আগাম জামিন মামলার শুনানি ছিল। এদিন আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ সুপ্রিম কোর্ট সিগন্যাল দেয়। আর সেই নির্দেশের কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সুমিত রায়ের খোঁজে সিআইডি আর স্পেশাল টাস্ক ফোর্স পৌঁছে যায় অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে। গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে ডাকাডাকি করতে থাকেন আধিকারিকরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই গেট খোলা হয়। তখনও অবশ্য দেখা মেলেনি সুমিতের। দুপুর ১.১৫ মিনিটে গেট খোলা হয়। এরপর ১.২০মিনিট সুমিতকে দেখা যায়। ১.৩০টার সময় গ্রেফতার করা হয় সুমিত রায়কে।

উল্লেখ্য, শালবনি ও ডেবরার জমি দুর্নীতি এবং চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণাসহ একাধিক মামলায় সুমিত রায়ের নাম জড়ানোর পরেই লুকিয়েছিলেন তিনি। অন্তরালে থেকেই সুমিত আগাম জামিনের আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। জমি দুর্নীতি মামলায় শীর্ষ আদালত থেকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচও পান। 

এরপর তিনি সিআইডি-র সদর দফতর ভবানী ভবনে হাজিরা দেন। তাঁকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সুমিত রায় তদন্তে সহযোগিতা করছেন না বলে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দাবি করেন। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল আর্থিক লেনদেন এবং নিজের পদবীর ইংরেজি বানান (ROY এবং RAY) বদলে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার মতো গুরুতর অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়। এই নাটকীয় অন্তর্ধান থেকে অবশেষে পুলিশ ও সিআইডির জালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়।

Leave a comment