দুর্গাপুজোয় কলকাতার রাস্তায় দায়িত্ব সামলানো স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য এবার বিশেষ পোশাকের ব্যবস্থা করছে কলকাতা পুলিশ। ২০ হাজার ভলান্টিয়ারের জন্য কমলা রঙের ইউনিফর্ম তৈরি করছে লালবাজার। দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় ডিউটি করার সময় যাতে স্বেচ্ছাসেবকদের কোনও অসুবিধা না হয়, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই পোশাকের নকশা তৈরি করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

পুজোর সময় শহরের আইনশৃঙ্খলা এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এই স্বেচ্ছাসেবকরা। স্কুল-কলেজের পড়ুয়া থেকে শুরু করে এনসিসি সদস্য এবং বিভিন্ন এলাকার ক্লাবের সদস্যদেরও এই কাজে যুক্ত করা হয়। মহালয়ার পর সংশ্লিষ্ট ডিভিশনে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

চতুর্থী থেকে দশমী পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে ডিউটিতে থাকেন স্বেচ্ছাসেবকরা। দশমীর পর বিসর্জনের সময়ও তাঁদের কাজে লাগানো হয়। ভিড় সামলানো, যান নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বড় পুজোমণ্ডপগুলিতে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার দিকটিও নজরে রাখেন তাঁরা। কোনও মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড় হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাও তাঁদের অন্যতম দায়িত্ব।

এবার স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য তৈরি পোশাকে থাকছে দু’টি কমলা রঙের শেড। ১২ হাজার পোশাক হবে গাঢ় কমলা এবং বাকি ৮ হাজার হালকা কমলা রঙের। সবকটি পোশাকই হবে কলার-সহ ফুলহাতা। সামনের দিকে সাদা রঙে থাকবে কলকাতা পুলিশের লোগো। পাশাপাশি পোশাকের সামনে ছোট এবং পিছনে বড় অক্ষরে লেখা থাকবে ‘কলকাতা পুলিশ ভলান্টিয়ার’।

পোশাকের সঙ্গে প্রত্যেক স্বেচ্ছাসেবকের জন্য থাকছে কমলা রঙের টুপিও। ইউনিফর্ম তৈরিতে বরাদ্দ করা হয়েছে ৭৩ লাখ টাকা। টুপির জন্য খরচ হবে আরও ১৬ লাখ। অর্থাৎ পোশাক এবং টুপি মিলিয়ে মোট বরাদ্দ প্রায় ৮৯ লাখ টাকা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন ইউনিফর্ম পরেই পুজোর সময় শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় স্বেচ্ছাসেবকদের মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি ভিড়প্রবণ বড় পুজোমণ্ডপগুলিতেও তাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মণ্ডপের ভিতরে যাতে অতিরিক্ত ভিড় না জমে, সেদিকেও নজর রাখবেন তাঁরা।

Leave a comment