বিশ্ব রোগী সুরক্ষা দিবসের আগের দিনই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কমিশন। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এই প্রথম ফুল বেঞ্চের বৈঠক হতে চলেছে কমিশনে। বুধবার দুপুর ৩টে থেকে শুরু হবে সেই বৈঠক। রোগীদের নিরাপত্তা এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামো আরও সুরক্ষিত করার একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্বাস্থ্য পরিষেবা নিতে গিয়ে প্রতি ১০ জন রোগীর মধ্যে অন্তত একজন কোনও না কোনও ভাবে ক্ষতির মুখে পড়েন। সেই ঝুঁকি যতটা সম্ভব কমানোই এবারের বিশ্ব রোগী সুরক্ষা দিবসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। সেই বিষয়টিকে সামনে রেখেই রাজ্যের বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার বিভিন্ন নিরাপত্তাবিধি খতিয়ে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।
বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন কমিশনের নতুন চেয়ারপার্সন তথা প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। এছাড়াও থাকবেন মৌমিতা গোদারা বসু (আইএএস), ডা. সুভাষচন্দ্র বিশ্বাস, ডা. সুশান্তকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, ডা. নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডা. সন্দীপ রায় এবং ডা. শ্যামাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।
সূত্রের খবর, হাসপাতালের পরিকাঠামো ও রোগী নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক নিয়ম কার্যকর করার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে। বিশেষ করে বেসরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য র্যাম্প থাকা বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। র্যাম্পের ব্যবস্থা করা সম্ভব না হলে লিফটের আকার বড় করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে।
শুধু পরিকাঠামো নয়, হাসপাতালের পরিষেবার মান ও কর্মীসংখ্যার দিকেও নজর দিতে চাইছে কমিশন। নিয়ম অনুযায়ী, পাঁচ জন রোগীর জন্য অন্তত একজন জিএনএম নার্সিং স্টাফ থাকার কথা। এই অনুপাত ঠিকমতো মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার বিষয়টিও আলোচনায় উঠতে পারে।
হাসপাতালে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা কমাতে বেডের মধ্যবর্তী দূরত্ব নিয়েও রয়েছে নির্দিষ্ট বিধি। দু’টি বেডের মধ্যে অন্তত দুই ফুট জায়গা রাখার নিয়ম কার্যকর রয়েছে। আচমকা পরিদর্শনের মাধ্যমে বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে এই সমস্ত বিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করার পরিকল্পনাও রয়েছে কমিশনের।
রাজ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে একাধিক পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালেও রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা যাতে পরিষেবা পেতে গিয়ে সমস্যায় না পড়েন, সে বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় বিশ্ব রোগী সুরক্ষা দিবসের প্রাক্কালে স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কমিশনের এই বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a comment