উপনির্বাচনের আগে নতুন নাম ও প্রতীক পেল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নামেই ভোটের ময়দানে নামবেন তাঁরা। দলের নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে বরাদ্দ হয়েছে ‘খাম’।
নতুন দলের নাম এবং প্রতীক নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্রক্রিয়া চলছিল। শুক্রবার বেলা ১১টার মধ্যে কমিশনের তালিকা থেকে তিনটি করে বিকল্প নাম ও প্রতীক বেছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল দুই শিবিরকে। সেই নির্দেশ মেনেই নিজেদের পছন্দের তালিকা কমিশনের কাছে পাঠিয়েছিল ঋতব্রত শিবির। সেই তালিকা থেকেই একটি নাম ও প্রতীক চূড়ান্ত করেছে কমিশন।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে নামের ক্ষেত্রে তিনটি বিকল্প দেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে ছিল ‘জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস’, ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ‘পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস’। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় নামটিই গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন।
প্রতীকের ক্ষেত্রেও তিনটি বিকল্প পাঠানো হয়েছিল। ‘খাম’, ‘টর্চ’ এবং ‘ব্ল্যাকবোর্ড’—এই তিনটির মধ্যে থেকে ‘খাম’ প্রতীকটি বেছে নেওয়া হয়েছে। ফলে আসন্ন উপনির্বাচনে নতুন নাম এবং নতুন প্রতীক নিয়েই লড়াই করবে ঋতব্রত শিবির।
দলের নামের সঙ্গে ব্যক্তির নাম যুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিল ঋতব্রত শিবির। সেই অবস্থানই ফের স্পষ্ট করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, প্রথম থেকেই ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ নামটিতে তাঁদের আপত্তি ছিল। কমিশনে পাঠানো তিনটি নামের কোনওটির সঙ্গেই তাঁর নিজের নাম রাখা হয়নি বলেও জানান তিনি।
ঋতব্রতের বক্তব্য, তাঁরা কোনও ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নয়, বরং সমষ্টিগতভাবে লড়াই করছেন। তাঁর মতে, এই লড়াইয়ে ব্যক্তি নয়, সংগঠনই গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে কালীঘাট তৃণমূলের সঙ্গে নামের রাজনীতি নিয়ে কটাক্ষও করেন তিনি। তাঁর দাবি, অন্য শিবির নামের মধ্যেই নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় খুঁজছে, কিন্তু তাঁদের লড়াইয়ের ভিত্তি আলাদা।
এখন নতুন নাম ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ‘খাম’ প্রতীক নিয়েই উপনির্বাচনের ময়দানে নামতে প্রস্তুত ঋতব্রত শিবির।

Leave a comment