বম্বে আইআইটির পড়ুয়া সাহিল ওয়াকোড়ের মৃত্যুকে ঘিরে বিতর্ক আরও গভীর হল। জাতিবিদ্বেষী কটাক্ষ এবং মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লাকে সাসপেন্ড করেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। সাহিলের বাবা-মা ইতিমধ্যেই ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন। পাশাপাশি, গোটা ঘটনায় আগের বক্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছে বম্বে আইআইটি।

শনিবার সাহিলের মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুদের দাবি, পরীক্ষায় চ্যাটজিপিটির সাহায্য নেওয়ার অভিযোগে তাঁকে ধরা হয়েছিল। দুপুর ২টো থেকে ৪টে পর্যন্ত পরীক্ষা চলার সময় তাঁর কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেন পরীক্ষক। এরপর পরীক্ষক এবং বিভাগীয় প্রধান সাহিলের সঙ্গে কথা বলেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর তিনি নিজের হস্টেলের ঘরে ফিরে যান। সন্ধ্যার দিকে সেখান থেকেই তাঁর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

সাহিলের মৃত্যুর পর তাঁর বাবা-মা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগে পরীক্ষক সূর্যনারায়ণ দুল্লার নাম উঠে আসে। তাঁদের দাবি, পরীক্ষার হলে নজরদারির দায়িত্বে থাকা ওই অধ্যাপক সাহিলকে সাসপেন্ড করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। একইসঙ্গে জাতিগত পরিচয় নিয়ে তাঁকে অপমানজনক মন্তব্য করার অভিযোগও উঠেছে।

পরিবারের আরও অভিযোগ, শুধু পরীক্ষার দিন নয়, গত তিন মাস ধরেই ওই অধ্যাপকের তরফে সাহিল মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন। এই অভিযোগ অবশ্য বম্বে আইআইটি কর্তৃপক্ষের তরফে আগে নিশ্চিত করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানের দাবি ছিল, এই ধরনের কোনও অভিযোগ তাদের কাছে জমা পড়েনি। এমনকি মৃত্যুর দু’দিন আগেও সাহিলের আচরণে অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করেননি বলে জানিয়েছেন তাঁর বাবা-মা।

সাহিলের পরিবারের অভিযোগ, অধ্যাপকের আচরণই তাঁকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে। রবিবার সূর্যনারায়ণ দুল্লার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। তার পরের দিনই তাঁকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেয় বম্বে আইআইটি।

এদিকে, একটি বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, সাহিলের মৃত্যুর ঘটনায় আগে কর্তৃপক্ষের তরফে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল, তার জন্য তারা ক্ষমাপ্রার্থী। গোটা বিষয়টি নিয়ে উপযুক্ত স্তরে তদন্ত চলছে বলেও জানানো হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাহিলের মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনও মন্তব্য না করার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান।

তবে কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক অবস্থান ঘিরে প্রশ্ন উঠছে। সাহিলের মৃত্যুর পর প্রথম দু’দিন প্রতিষ্ঠানের তরফে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল, তার ভিত্তি কী ছিল এবং কেন শুরু থেকেই সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন মৃত পড়ুয়ার পরিবার।

Leave a comment