পুজোর আগে রাজ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তা বাড়ছে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৯ হাজারের কাছাকাছি। হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ২৫৬ জন। পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার স্বাস্থ্য দফতরের তরফে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের পরেই ডেঙ্গু পরীক্ষা এবং রোগীদের নজরে রাখার ক্ষেত্রে নতুন কিছু নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য দফতরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত শেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩৭০০ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১২৮ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। আক্রান্তের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ। এরপর রয়েছে কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং হুগলি।

বুধবারের বৈঠকে ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। ছ’টি পুরনিগম, ছ’টি পুরসভা, মেডিক্যাল কলেজ এবং জেলাশাসকদের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে যোগ দেন। কলকাতা, হাওড়া, শিলিগুড়ি, বিধাননগর, দুর্গাপুর এবং আসানসোল পুরনিগমের কমিশনাররাও উপস্থিত ছিলেন।

নতুন নির্দেশিকায় জ্বরের শুরুর দিকটা বিশেষ ভাবে নজরে রাখার কথা বলা হয়েছে। জ্বরের প্রথম তিন থেকে পাঁচ দিন রোগীর শারীরিক অবস্থার দিকে নিয়মিত নজর রাখতে হবে। প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাচ্ছে কি না, ঘুমের কোনও পরিবর্তন হচ্ছে কি না বা খিঁচুনি হচ্ছে কি না, সেগুলিও দেখতে হবে। পেটে ব্যথা, বারবার বমি, অত্যধিক দুর্বলতা, খিঁচুনি, জ্ঞান হারানো কিংবা শরীরের কোথাও রক্তপাত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ডেঙ্গু পরীক্ষার ক্ষেত্রেও সময় অনুযায়ী আলাদা পরীক্ষা করার কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য ভবন। জ্বর শুরু হওয়ার প্রথম পাঁচ দিনের মধ্যে NS1 Antigen ELISA পরীক্ষা করতে হবে। পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলে করতে হবে IgM পরীক্ষা।

চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গুতে জ্বর কমে যাওয়ার পরের সময়টাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। অনেক ক্ষেত্রে জ্বর কমার পর রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে। তাই জ্বর চলে গেলেই রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ ধরে না নিয়ে আরও কিছুদিন নজরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিবারের লোকজনকেও রোগীর অবস্থার দিকে খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে।

এদিকে জ্বর ১০ দিন বা তার বেশি থাকলে শুধু ডেঙ্গুর চিকিৎসা করলেই হবে না। লেপ্টোস্পাইরোসিস, স্ক্রাব টাইফাসের মতো অন্য সংক্রমণ হয়েছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করে দেখার কথা বলা হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ক্ষেত্রে হাসপাতাল থেকে সংক্রমণের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখতে হবে।

প্লেটলেট কমে গেলেই আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। শুধু প্লেটলেটের সংখ্যা নয়, রোগীর সামগ্রিক অবস্থা এবং কী কী উপসর্গ রয়েছে, তা দেখেই চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

Leave a comment