হবু স্বামীর ফ্ল্যাটে অন্য এক মহিলাকে দেখে ফেলেছিলেন তরুণী। তা নিয়ে প্রতিবাদ করায় তাঁকে মারধর, ধর্ষণ এবং শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত পেশায় চিকিৎসক। তাঁর বিরুদ্ধে এমনই গুরুতর অভিযোগ এনেছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক স্কুলশিক্ষিকা। তরুণীর দাবি, তাঁকে জোর করে ওষুধও খাওয়ানো হয়েছিল। ঘটনার পর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। সেখান থেকে কিছুটা সুস্থ হয়ে বেরিয়ে পঞ্চসায়র থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার এক চিকিৎসকের সঙ্গে ওই শিক্ষিকার বিয়ে ঠিক হয়েছিল। দু’জনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও ছিল। এরই মধ্যে হবু স্বামীর সঙ্গে অন্য এক মহিলার সম্পর্ক রয়েছে বলে জানতে পারেন তরুণী। বিষয়টি জানার পর একদিন পঞ্চসায়রে চিকিৎসকের ফ্ল্যাটে চলে যান তিনি। সেখানে গিয়ে হবু স্বামীর সঙ্গে অন্য এক মহিলাকে দেখতে পান বলে অভিযোগ। তা নিয়ে প্রতিবাদও করেন।
এর পর বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার কথা বলে ওই শিক্ষিকাকে ফের ফ্ল্যাটে ডেকে পাঠান চিকিৎসক বলে অভিযোগ। তাঁর কথায় বিশ্বাস করে সেখানে গিয়েছিলেন তরুণী। কিন্তু ফ্ল্যাটে পৌঁছনোর পরই পরিস্থিতি বদলে যায় বলে দাবি তাঁর।
অভিযোগকারিণীর দাবি, ফ্ল্যাটে যাওয়ার পর তাঁকে মারধর করা হয়। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করা হয়েছিল। একসময় শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে পঞ্চসায়র থানায় দায়ের করা অভিযোগে জানিয়েছেন ওই শিক্ষিকা।
তাঁর আরও অভিযোগ, অভিযুক্ত চিকিৎসক তাঁকে জোর করে ওষুধ খাইয়েছিলেন। কোনওরকমে ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে আসেন তরুণী। কিন্তু ঘটনার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার একটি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় তাঁকে।
হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন ওই শিক্ষিকার উপর নির্যাতনের বিষয়টি সামনে আসে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয় বলে জানা গিয়েছে। এরপর পুলিশ তাঁর সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে জানতে চায়।
কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান তরুণী। তার পরই পঞ্চসায়র থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। ঘটনার পর তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন শিক্ষিকা। তাঁর দাবি, আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে তাঁর উপর মানসিক চাপ তৈরির চেষ্টা করেন অভিযুক্ত।
একাধিক অভিযোগে মামলা
শিক্ষিকার অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণ, গুরুতর আঘাত, মারধর ও প্রতারণাসহ একাধিক অভিযোগে মামলা শুরু করেছে পঞ্চসায়র থানার পুলিশ। অভিযুক্ত চিকিৎসককে জিজ্ঞাসাবাদ করে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

Leave a comment