বাড়ির সামনে গাড়ি রাখা নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে ঝামেলা। সেই বিবাদ থেকেই গুলি চালিয়ে তিনজনকে খুনের অভিযোগ উঠল লখনউয়ে। সোমবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের রাজধানীর সাদাতগঞ্জের নয়াবস্তা এলাকায়। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন আরএসএস নেতা শিবাজি তিওয়ারি এবং সুয়াশ ও শিবেন্দ্র। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ঋষভ শুক্লাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে বাড়ির সামনে একটি মন্দিরের কাছে গাড়ি পার্ক করা নিয়ে শিবাজির সঙ্গে ঋষভের বচসা শুরু হয়। সেই সময় সেখানে ছিলেন ঋষভের দুই ভাই শিবেন্দ্র ও সুয়াশও। কথাকাটাকাটির মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, এরপর বাড়িতে গিয়ে পিস্তল নিয়ে আসে ঋষভ। ফিরে এসে শিবাজি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় সে।
গুলিতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় শিবাজি ও সুয়াশের। গুলিবিদ্ধ শিবেন্দ্রকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও ফরেনসিক দল। দেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই বিবাদ ছিল। গাড়ি পার্কিং নিয়ে বচসার সময় সেই পুরনো বিবাদই নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত ঋষভ নৌসেনার জওয়ান বলে জানা গিয়েছে। তার বিরুদ্ধে খুনসহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহত শিবাজি তিওয়ারি ছিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) লখনউ পশ্চিমেরসহ জেলা কর্মকর্তা। তিনি বিদ্যুৎ দফতরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীও ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন জেসিপি ক্রাইম অপর্ণা, ডিসিপি পশ্চিম জিতেন্দ্র শ্রীবাস্তব এবং বাজারখালা এসিপি রঞ্জিত কুমার। সাদাতগঞ্জ, বাজারখালা ও তালকাটোরা থানার পুলিশও এলাকায় রয়েছে। কী কারণে এই ঘটনা ঘটল এবং এর পিছনে পুরনো বিবাদের ভূমিকা কতটা, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Leave a comment