অভিনেত্রী শতাব্দী রায়ের জীবনে নেমে এসেছে গভীর শোক। প্রয়াত হয়েছেন তাঁর বাবা শৈলেন রায়। গত সপ্তাহে ৮৭ বছর বয়সে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। বাবাকে হারানোর খবর প্রকাশ্যে জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন পোস্ট করেছেন শতাব্দী। প্রিয় মানুষকে হারানোর ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি তিনি।
শতাব্দীর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর বাবা মৃত্যুর আগে পর্যন্ত যথেষ্ট সুস্থ ছিলেন। বয়সজনিত বড় কোনও সমস্যা ছিল না। ডায়াবেটিস কিংবা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যাও ছিল না শৈলেন রায়ের। কিন্তু আচমকাই শরীরে সোডিয়াম এবং পটাশিয়ামের মাত্রা কমে যায়। পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন একাধিক পরীক্ষা করা হয়। সেখানেই ফুসফুসে ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর প্রায় ১৫ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন শৈলেন রায়। কিন্তু চিকিৎসকদের চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয় তাঁর। অল্প সময়ের মধ্যে বাবার শারীরিক অবস্থার এমন পরিবর্তন মেনে নিতে পারছেন না শতাব্দী।
বাবার সঙ্গে অভিনেত্রীর সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।কর্মজীবনের শুরু থেকেই বিভিন্ন সময়ে বাবাকে পাশে পেয়েছেন তিনি। শুটিংয়ের জন্য যেখানে যেতেন, অনেক সময় বাবাও তাঁর সঙ্গে থাকতেন। ফলে বাবার চলে যাওয়া শতাব্দীর কাছে শুধু পিতৃবিয়োগ নয়, দীর্ঘদিনের এক সঙ্গীকে হারানোর মতো। তবে বাবাকে দীর্ঘদিন অসুস্থ হয়ে কষ্ট পেতে হয়নি এই বিষয়টিকে কিছুটা সান্ত্বনা হিসেবে দেখছেন শতাব্দী। মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে সবকিছু বদলে যাওয়ার বিষয়টি এখনও তাঁর কাছে অবিশ্বাস্য।
বৃহস্পতিবার বাবা-মায়ের একাধিক পুরনো ছবি কোলাজ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন শতাব্দী। সেখানে তিনি লেখেন, “বাবাও চলে গেল—এই ভারী সত্যিটা মেনে নেওয়ার মতো ভাষা আমার জানা নেই।” বাবা-মায়ের দীর্ঘদিনের ভালোবাসার কথাও স্মরণ করেছেন তিনি। তাঁদের সম্পর্কের টানেই যেন আবার দু’জন একসঙ্গে হয়েছেন এমন অনুভূতিও প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী।
পরজন্মে আবার বাবা-মা হয়ে ফিরে আসার প্রার্থনা জানিয়ে শতাব্দীর আবেগঘন বার্তা ছুঁয়ে গিয়েছে তাঁর অনুরাগীদের। বাবার স্মৃতি আঁকড়ে ধরেই এখন ধীরে ধীরে এই কঠিন সময় পার করার চেষ্টা করছেন অভিনেত্রী।

Leave a comment