দুর্গাপুজোর আবহে এবার পরিবেশ রক্ষার বিশেষ বার্তা দিতে চলেছে বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন। ৭৬তম বছরে পা দেওয়া এই জনপ্রিয় পুজোর এবারের থিম ‘যোজন’। মানুষ ও পরিবেশের মধ্যে তৈরি হওয়া দূরত্ব কমিয়ে তাঁদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার ভাবনাই জায়গা করে নিয়েছে এবারের শিল্পভাবনায়।
পুজোর প্রায় এক মাস আগে প্রকাশ্যে এসেছে এ বছরের থিম। শিল্পী সুশান্ত শিবানী পাল-এর পরিকল্পনায় মণ্ডপে ফুটে উঠবে মানুষ, প্রকৃতি, সমাজ এবং বাঙালির ঐতিহ্যের পারস্পরিক সম্পর্ক। বিভিন্ন ভিজ্যুয়াল আর্ট ও ইনস্টলেশনের মাধ্যমে এই ভাবনা দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা হবে।
তবে শুধু মণ্ডপসজ্জায় পরিবেশের কথা বলেই থেমে থাকছে না পুজো কমিটি। এবারের বিশেষ উদ্যোগ ‘মিশন রি: রিজয়েস। রিসাইকেল। রিপিট’-এর মাধ্যমে পুজোর পরেও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ব্যবহৃত সামগ্রীকে আবর্জনা হিসেবে ফেলে না দিয়ে পুনর্ব্যবহারের অভ্যাস তৈরি করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
পুজো প্রাঙ্গণ থেকে বিভিন্ন প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করবে ‘ইকোভিল’। চিপস-বিস্কুটের প্যাকেট, প্লাস্টিকের বোতল-সহ নানা ধরনের ফেলে দেওয়া সামগ্রী সংগ্রহ করে সেগুলি থেকে তৈরি করা হবে পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্য। মণ্ডপের স্টলেই দর্শনার্থীদের জন্য সেই পণ্য বিক্রির ব্যবস্থাও থাকবে।
পুজোর ব্যানার ও ফ্লেক্স যাতে ব্যবহারের পর বর্জ্যে পরিণত না হয়, তার জন্যও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘পথচলা’-র সহযোগিতায় পুরনো ব্যানার ও ফ্লেক্স দিয়ে তৈরি হবে টোট ব্যাগ, ফাইল অর্গানাইজার, কোস্টার-সহ নিত্যব্যবহার্য সামগ্রী। এই কাজে অংশ নেবেন দক্ষিণ কলকাতার প্রান্তিক পরিবারের সুবিধাবঞ্চিত মহিলারা। এর ফলে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।
পুজোর ফুল ও অন্যান্য পচনশীল সামগ্রীও এবার নতুন কাজে লাগানো হবে। মণ্ডপ থেকে সংগ্রহ করা ফুল পাঠানো হবে বীরভূমে। মল্লারপুর নৈসুবা ট্রাস্ট-এর তত্ত্বাবধানে স্থানীয় মহিলারা সেই ফুল ব্যবহার করে তৈরি করবেন জৈব সার। পরে সেই সার বাড়ির বাগানে ব্যবহারের জন্য বিক্রি করা হবে।
বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অঞ্জন উকিল ও সম্পাদক সপ্তর্ষি বসু-র আশা, ‘যোজন’ দর্শনার্থীদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করবে। উৎসবের আনন্দের সঙ্গে পরিবেশ রক্ষা, পুনর্ব্যবহার এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এবার তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

Leave a comment