বাল্যবিবাহ বন্ধে এবার পঞ্চায়েত স্তর থেকেই সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। আগামী ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন রাজ্যের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতে বিশেষ গ্রামসভা বসবে। সেখানে গ্রামের সার্বিক উন্নয়নের পরিকল্পনা তৈরির পাশাপাশি ‘বাল্যবিবাহ মুক্ত গ্রাম’ গড়ে তোলার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হবে।

নবান্ন সূত্রে খবর, গত ২৩ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েতিরাজ মন্ত্রকের সঙ্গে রাজ্যের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতকে বাল্যবিবাহ মুক্ত গ্রাম সংক্রান্ত বিশেষ প্রস্তাব গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

বিশেষ গ্রামসভায় পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি আধিকারিকদের পাশাপাশি সাধারণ গ্রামবাসীদেরও অংশগ্রহণ থাকবে। মহিলা, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য এবং প্রান্তিক কৃষকদের মতামতও নেওয়া হবে। গ্রামের প্রয়োজন অনুযায়ী আগামী আর্থিক বছরে কোন কোন উন্নয়নমূলক কাজ করা দরকার, তা নিয়ে আলোচনা হবে।

বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বাবা-মা এবং অভিভাবকদের সচেতন করা হবে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে দিলে সামাজিক ও পারিবারিক ক্ষেত্রে কী ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে, তা তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা সম্পর্কেও গ্রামবাসীদের জানানো হবে।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে স্থানীয় স্তরে নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। 

অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, আশা কর্মী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সম্ভাব্য বাল্যবিবাহের ঘটনা সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হবে। স্কুল শিক্ষক এবং শিশু সুরক্ষা বা সমাজকল্যাণ দফতরের আধিকারিকদেরও এই সভায় থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

শুধু বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ নয়, পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও সচেতনতা তৈরি হবে। কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্লাস্টিক বর্জন এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ‘স্বচ্ছতা হি সেবা’ কর্মসূচির প্রচার করা হবে।

এদিকে, গ্রামের রাস্তা, পানীয় জল-সহ বিভিন্ন পরিকাঠামোর সমস্যা নিয়েও সরাসরি বাসিন্দাদের মতামত নেওয়া হবে। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে আগামী দিনের পঞ্চায়েত উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করা হবে। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্বচ্ছতা আনতেই ‘জনগণের পরিকল্পনা অভিযান’-এর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

Leave a comment