পালাবদলের পর বাংলায় প্রথম দুর্গাপুজো। আর তার আগেই শারদোৎসব নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল নতুন সরকার। সোমবার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠক শেষে পুজোর সরকারি অনুদান, বিদ্যুৎ ও দমকলের খরচ, উদ্বোধনের সময়, কার্নিভ্যাল এবং বিসর্জন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। ফলে এবারের দুর্গাপুজোয় আগের বছরের তুলনায় বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা যাবে।
সবচেয়ে বেশি নজর ছিল পুজো কমিটিগুলির সরকারি অনুদানের দিকে। শেষ পর্যন্ত ঘোষণা হয়েছে, এবারে পুজো কমিটিগুলিকে ১ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। ফলে সরকারি সাহায্য নিয়ে পুজো আয়োজন করতে চাওয়া ক্লাবগুলির জন্য বড় স্বস্তির খবর এসেছে। তবে বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলিকে সরকারি সাহায্য নেওয়ার বিষয়ে কিছুটা ভিন্ন বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আবেদন করেছেন, যেসব পুজো কমিটির বাজেট অনেক বেশি, তারা যেন সরকারি অনুদান না নেয়। নিজেদের আর্থিক ক্ষমতায় পুজো আয়োজন করলে তাঁদের ধন্যবাদ জানানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
দুর্গাপুজোয় সরকারি অনুদান দেওয়ার প্রথা অবশ্য নতুন নয়। আগের সরকারের আমলে প্রথমবার পুজো কমিটিগুলিকে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া শুরু হয়েছিল। পরে কয়েক দফায় সেই অর্থের পরিমাণ বাড়ানো হয়। ২০২৫ সালে পুজো কমিটিগুলি ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান পেয়েছিল। এবার পালাবদলের পর নতুন সরকারের প্রথম দুর্গাপুজোয় সেই অনুদান নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লক্ষ টাকা। অনুদান পেতে হলে পুজো কমিটিগুলিকে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আবেদন করতে হবে। আবেদন পদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় নথি সম্পর্কে সরকারি নির্দেশিকা মেনেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। বিদ্যুৎ ও দমকলের খরচ নেই
অনুদানের পাশাপাশি পুজো কমিটিগুলির জন্য আরও বড় স্বস্তির ঘোষণা এসেছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এবারের দুর্গাপুজোয় বিদ্যুৎ এবং দমকলের কোনও খরচ দিতে হবে না। পুজোর সময় মণ্ডপ, আলোকসজ্জা এবং অন্যান্য ব্যবস্থার জন্য বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়ে যায়। সেই কারণে বিদ্যুৎ বিল অনেক সময় পুজোর বাজেটের বড় অংশ হয়ে দাঁড়ায়। পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তার জন্য দমকল সংক্রান্ত খরচও থাকে। এবার দু’টি ক্ষেত্রেই খরচ মকুব হওয়ায় পুজো কমিটিগুলি আর্থিকভাবে কিছুটা সুবিধা পাবে।
বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি বাজেটের পুজোগুলির ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মহালয়ার আগে কোনও পুজোর উদ্বোধন নয় এবার পুজোর উদ্বোধনের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে মহালয়ার আগেই বিভিন্ন পুজোর উদ্বোধন শুরু হয়ে যেত। কিন্তু এবার সেই প্রথায় লাগাম টানা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মহালয়ার আগে কোনও পুজোর উদ্বোধন হবে না। অর্থাৎ মাতৃপক্ষ শুরু হওয়ার পরেই পুজোর উদ্বোধন করা যাবে। মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেনে একটি মেগা শোয়ের আয়োজন করা হবে এবং সেই অনুষ্ঠান থেকেই দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। কার্নিভ্যাল থাকছে না দুর্গাপুজোর সঙ্গে গত কয়েক বছর ধরে যুক্ত ছিল বর্ণাঢ্য কার্নিভ্যাল। কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান পুজোর অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু এবারে সেই আয়োজন থাকছে না। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এবার দুর্গাপুজোর কার্নিভ্যাল আয়োজন করা হবে না। তবে পুজো কমিটিগুলিকে সম্মান জানানোর জন্য সরকারের তরফে শারদ সম্মানের আয়োজন করা হবে। বিভিন্ন বিভাগে সেরা পুজোগুলিকে বেছে নিয়ে সম্মানিত করা হবে।
বিসর্জনেও কড়া নির্দেশ
দুর্গাপুজোর শেষ পর্ব বিসর্জন নিয়েও নির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানানো হয়েছে, ২৪ অক্টোবরের মধ্যে বিসর্জনের প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। পাশাপাশি বিসর্জনের সময় ক্রেন ব্যবহার করা যাবে না।
অর্থাৎ এবার পুজো আয়োজনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একাধিক নিয়ম মেনে চলতে হবে কমিটিগুলিকে। সরকারি অনুদান ও বিল মকুবের মতো সিদ্ধান্ত যেমন উদ্যোক্তাদের স্বস্তি দেবে, তেমনই মহালয়ার আগে উদ্বোধন বন্ধ, কার্নিভ্যাল বাতিল এবং বিসর্জনের সময়সীমার মতো সিদ্ধান্তে এবারের শারদোৎসবের চেনা ছবিতে পরিবর্তন আসতে চলেছে।

Leave a comment