সোমবার সকালেই কালীঘাট তৃণমূল সাংসদ নাদিমুল হকের বাড়ি ও অফিসে হানা দেন ইডি আধিকারিকরা। অবশেষে টানা ২৪ ঘন্টা তল্লাশি চালিয়ে, জিজ্ঞাসাবাদের পর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ বেরিয়ে যান ইডি আধিকারিকরা। টানা তল্লাশির পরে জানা যাচ্ছে, ৬০ কোটি টাকার গরমিল মিলেছে। এই অর্থ কাদের অ্যাকাউন্টে আদানপ্রদান হল, হাওয়ালার মাধ্যমে লেনদেন হল কিনা! তা নিয়েই নাদিমুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন ইডির আধিকারিকরা।
নাদিমুল হকের বাড়ি ও অফিসে ব্যাঙ্ক লেনদেনের কাগজপত্র ও বেশ কিছু ডিজিটাল নথি খতিয়ে দেখা হয়। এর মধ্যে ৬০ কোটি টাকার লেনদেনের যথাযথ কোনও প্রমাণ মেলেনি বলে দাবি তদন্তকারীদের। এ বিষয়ে নাদিমুল হককে প্রশ্ন করা হলে তিনিও তেমন জবাব দিতে পারেননি। আর সেই কারণেই যত কৌতূহল তৈরি হয়েছে এই ৬০ কোটি টাকা নিয়ে। ইডির দাবি, ওই হিসেব সন্দেহজনক। হাওয়ালার মাধ্যমে টাকা লেনদেন হয়েছিল কি না! তা নিয়েই তল্লাশি চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
উল্লেখ্য, সোমবার সকাল থেকে সাংসদের কলকাতার অফিস, বাড়ি এবং দিল্লি ও রাঁচির দফতরে মোট সাতটি ঠিকানায় অভিযান শুরু করে ইডি। জানা যায়, সেসময় নাদিমুল হক ছিলেন রাঁচিতে। সেখান থেকে তাঁকে সোমবার রাতে নিয়ে আসা হয় কলকাতায়। এরপর তাঁকে সঙ্গে নিয়েই কলকাতার বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালায় ইডি।
প্রসঙ্গত, পার্ক সার্কাসে একটি উর্দু সংবাদপত্রের দফতর রয়েছে নাদিমুল হকের। আর এই দফতরের আড়ালে বেআইনি আর্থিক লেনদেন চালানোর অভিযোগ ওঠে। কালীঘাট তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট থেকেও নিয়ম বহির্ভূতভাবে অর্থ পাচার হয়েছে নাদিমুলের এই অফিসের আড়ালে। এহেন দাবি তুলে বিধাননগর থানায় এই সংক্রান্ত অভিযোগ জমা পড়ে। তার ভিত্তিতেই তদন্তে নেমেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

Leave a comment