খাবারের গুণমান নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। কলকাতা পুরসভার সাম্প্রতিক অভিযানে বিভিন্ন জায়গায় পচা মাংস, নষ্ট মাছ, মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার এবং খাবারে ব্যবহৃত ক্ষতিকর রঙের সন্ধান মিলেছে। সপ্তাহব্যাপী অভিযানের পর ৪০টি সংস্থাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা বলছেন, নষ্ট বা দূষিত খাবার খাওয়ার পর শুধু পেটের সমস্যা নয়, গুরুতর ক্ষেত্রে শরীরের একাধিক অঙ্গেও প্রভাব পড়তে পারে।

চিকিৎসক ডা. প্রভাসপ্রসূন গিরির মতে, পচা মাংস ও মাছের মধ্যে ক্ষতিকর জীবাণু এবং ছত্রাক জন্মাতে পারে। সেগুলি খাবারের মাধ্যমে শরীরে ঢুকলে ফুড পয়জনিং হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিছু ক্ষেত্রে খাবারের সঙ্গে টক্সিনও শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এর ফলে তীব্র ডায়রিয়া, বমি এবং ডিহাইড্রেশনের পাশাপাশি টক্সিক শকের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

পরিস্থিতি আরও গুরুতর হলে কিডনির উপরেও চাপ পড়তে পারে। চিকিৎসকের বক্তব্য অনুযায়ী, সেকেন্ডারি রেনাল ফেইলিউর থেকে মাল্টি-অর্গান ডিসফাংশনের মতো জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন রোগীরও চিকিৎসকদের নজরে এসেছে, যাঁদের দূষিত খাবার খাওয়ার পর অবস্থা এতটাই খারাপ হয়েছে যে আইসিইউ-তে ভর্তি করতে হয়েছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে ডায়ালিসিসের প্রয়োজনও হয়েছে।

চিকিৎসক বিপ্রেশ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, খাবার তাজা অবস্থায় ব্যবহার না করে দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করলে ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বাসি খাবার থেকে অ্যাকিউট গ্যাস্ট্রোএন্টারাইটিস হতে পারে। এর ফলে হঠাৎ বমি, লুজ মোশন এবং বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ দেখা দিতে পারে।

পুষ্টিবিদ স্বাগতা মুখোপাধ্যায়ের মতে, খাবারে অতিরিক্ত পরিমাণে ফাঙ্গাস বা জীবাণু থাকলে তা শরীরে প্রবেশ করে হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে। সব খাবার দীর্ঘক্ষণ উচ্চ তাপে রান্না করা হয় না। তাই রান্না করা খাবার মানেই সব ধরনের জীবাণুর ঝুঁকি পুরোপুরি চলে গিয়েছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, খাবারের গন্ধ, রং বা স্বাদে অস্বাভাবিকতা থাকলে তা না খাওয়াই নিরাপদ। খাবার খাওয়ার পর বারবার বমি, তীব্র ডায়রিয়া, অতিরিক্ত দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সময়মতো চিকিৎসা না হলে খাদ্যবিষক্রিয়া গুরুতর আকার।

Leave a comment