বাঙালি ও অবাঙালি বিভেদে দাঁড়ি টানলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গণেশ পুজোর উদ্বোধন করে সনাতনী সংস্কৃতির ভুল ব্যাখ্যা নিয়ে সরব হলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মতে, বাম শাসনের ৩৯ বছর এবং তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনকালে ইচ্ছাকৃতভাবে সনাতনী সংস্কৃতির ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই মর্মে তিনি বাঙালি ও অবাঙালি বিভেদ ঘুচিয়ে সনাতনী বাংলা গড়ার শপথ নিলেন।
শনিবার তিনি কেষ্টপুরে গণেশ পুজো উদ্বোধন করেন। সেখানেই তিনি সনাতনী সংস্কৃতি নিয়ে বিভেদের রাজনীতির প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সবসময় ভাষা, জাত, উৎসবের নামে বাঙালি, সনাতনীদের বিভাজিত করার চেষ্টা করেছেন। কেউ বা কারা ভাবত গণেশ পুজো মহারাষ্ট্রের। মোটেও না। গণপতি বাবা গোটা দেশের সনাতনীদের। তারা চেষ্টা করত মা দুর্গা শুধু কলকাতার। না গোটা দেশের সনাতনীদের। কেউ বা কারা পরিবেশ তৈরি করে রেখেছিলেন ছটপুজো বিহারীদের। মোটেও না আমাদের বাড়ির মা-বোনেরাও সূর্যপ্রণাম করেন। ব্রতপালন করেন। প্রাচীর তৈরি করে রেখেছিল তুমি বাঙালি, গুজরাটি। আমরা ছাব্বিশে সেই প্রাচীর ভেঙে দিয়েছি। আমরা সকলে সনাতনী, হিন্দুস্তানি।”
তিনি তৃণমূল সরকারকে কটাক্ষ করে আরও বলেন, “১৫ বছর প্রথম দিকে না হলেও শেষের দিকে বাংলাকে জামাতিকরণের চেষ্টা হয়েছে। এক বছর বিসর্জনের দিন বদলে দেওয়া হয়েছিল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পুজোর সমন্বয় বৈঠকে বলেছিলেন এবছর মহরম আছে। তাই বিজয়া দশমীতে প্রতিমা নিরঞ্জন হবে না। আপনি পারেন না। যা পঞ্জিকায় আছে তাই হবে। আমাদের পরম্পরা পাল্টে দেওয়া হয়েছিল। পুজো উদ্বোধন হত পিতৃপক্ষে। এবার আর সেসব হবে না।” মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, “পরম্পরা ফিরিয়ে আনার কাজ সকলকে করতে হবে। নিজের নাম, পরিচয়, ধর্ম, সংস্কার, পরম্পরা – এগুলো যাতে কেউ বদলে দিতে না পারে তাই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

Leave a comment