কলকাতা: গড়িয়াহাট বাজারে সোমবার সকালেই হানা দিল পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা দফতর। বাজারে মাছ-মাংস বিক্রির ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, সংরক্ষণ ব্যবস্থা ঠিক রয়েছে কি না এবং খাদ্যসামগ্রীর গুণমান কেমন, তা খতিয়ে দেখতে একাধিক দোকানে পরিদর্শন চালান আধিকারিকরা। অভিযানের সময় একটি মাংসের দোকান থেকে প্রায় ১০ থেকে ১৫ কেজি ফ্রোজেন চিকেন ও মটন বাজেয়াপ্ত করা হয়।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, দোকানে মাংস রাখার জন্য ব্যবহৃত ক্রেট পরীক্ষা করতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ ফ্রোজেন মাংস দেখতে পান আধিকারিকরা। প্যাকেটগুলিতে মাংস সংরক্ষণের তারিখ বা ব্যবহারের শেষ সময়ের কোনও উল্লেখ ছিল না। ফ্রোজেন মাংস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তথ্য উল্লেখ করা প্রয়োজন। সেই নিয়ম মানা হয়নি বলেই মাংস বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় পুরসভা।

বাজেয়াপ্ত মাংস যাতে পরে কোনওভাবেই বিক্রি বা রান্নায় ব্যবহার করা না যায়, তার জন্য সেগুলি নষ্ট করে দেওয়া হয়। মাংসের উপর ফিনাইল জল ঢেলে ব্যবহারের অযোগ্য করার পর পুরসভার গাড়িতে করে ভ্যাটে ফেলে দেওয়া হয়। পুরসভা জানিয়েছে, খাদ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘন হলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিন গড়িয়াহাট বাজারের মাছের দোকানগুলিতেও বিশেষ নজরদারি চালানো হয়। একাধিক দোকান ঘুরে মাছের গুণগত মান এবং সংরক্ষণের পদ্ধতি পরীক্ষা করেন খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকরা। প্রতিটি মাছের দোকান থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই নমুনাগুলির সঙ্গে ব্যবসায়ীর নাম ও স্বাক্ষর নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

সংগৃহীত মাছের নমুনাগুলি পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হবে। রিপোর্টে কোনও অনিয়ম বা গুণগত সমস্যা ধরা পড়লে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হতে পারে।

পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু বাজার নয়, শহর ও জেলার বিভিন্ন প্রান্তে খাদ্যসামগ্রীর মান যাচাইয়ে অভিযান চলছে। হোটেল, রেস্তরাঁ, মিষ্টির দোকান, পাউরুটি ও দুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলিতেও নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে।

গড়িয়াহাটের অভিযানে ব্যবসায়ীদেরও সতর্ক করা হয়েছে। মাছ-মাংস সঠিকভাবে সংরক্ষণ, ফ্রোজেন খাদ্যসামগ্রীর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তারিখ ও তথ্য উল্লেখ এবং খাদ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলার বিষয়ে তাঁদের সচেতন করা হয়েছে। পুরসভার লক্ষ্য, বাজার থেকে সাধারণ মানুষের ঘরে নিরাপদ খাদ্য পৌঁছনো নিশ্চিত করা।

Leave a comment