গলা ব্যথা, টনসিল ফুলে যাওয়া, ঢোক গিলতে কষ্ট। ভাইরাসের সংক্রমণে শিশুদের মধ্যে এই সমস্যাগুলি প্রায়ই দেখা যায়। এমন সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক সাধারণত কাজে আসে না। ভাইরাল টনসিলাইটিসে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার প্রভাব কতটা, তা খতিয়ে দেখতে গবেষণা করেছেন কলকাতার ডি এন দে হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের গবেষকরা।

ডা. সৌরভ দে-এর নেতৃত্বে এই গবেষণায় অংশ নেয় ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সি ৭৮ জন শিশু। তাদের কারও গলা ব্যথা ছিল, কারও টনসিল ফুলেছিল, আবার কারও ঢোক গিলতে সমস্যা হচ্ছিল। কোভিড পরীক্ষার পাশাপাশি লালার নমুনা পরীক্ষা করে অ্যাডেনোভাইরাস, রাইনোভাইরাস এবং আরএসভি-র মতো ভাইরাসের উপস্থিতিও খতিয়ে দেখা হয়। গবেষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নমুনার পরীক্ষাগার ও ভাইরাস সংক্রান্ত বিশ্লেষণ করা হয়েছিল কলকাতার হেরিটেজ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে।

অংশগ্রহণকারী শিশুদের দু’টি দলে ভাগ করা হয়েছিল। এক দলকে দেওয়া হয় হোমিওপ্যাথিক ওষুধ, অন্য দলকে ওষুধের মতো দেখতে নিষ্ক্রিয় উপাদান বা প্লেসবো। গবেষণার ফল অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পাওয়া শিশুদের ৮৮.৫ শতাংশের উপসর্গে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়। প্লেসবো পাওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৩৮.৫ শতাংশ। বিভিন্ন উপসর্গের ভিত্তিতে ওষুধ বেছে নেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে ‘হেপার সালফার’ সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

গবেষক দলের মাইক্রোবায়োলজিস্ট ডা. শতদল দাসের মতে, এই ফলাফল নিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার। বেশি সংখ্যক শিশুকে নিয়ে গবেষণা করলে চিকিৎসার কার্যকারিতা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

ভাইরাসের সংক্রমণ হলেই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানোর প্রবণতা নিয়েও সতর্ক করেছেন গবেষকরা। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা ঠিক নয়। প্রয়োজন ছাড়া এই ওষুধ খেলে পরবর্তী সময়ে জীবাণুর ওষুধ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়তে পারে।

তবে এই গবেষণার ফলকে হোমিওপ্যাথি ভাইরাল টনসিলাইটিসের কার্যকর চিকিৎসা, এমন প্রমাণ হিসেবে ধরা যায় না। চিকিৎসায় এর ভূমিকা নিশ্চিত করতে আরও বড় পরিসরে এবং স্বাধীনভাবে গবেষণা প্রয়োজন। শিশুর গলা ব্যথা, জ্বর বা টনসিল ফুলে যাওয়ার সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই জরুরি।

Leave a comment