এখনো ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়া বাকি কিন্তু তার আগে বিজেপির টিকিট পেতে হিড়িক পড়েছে আবেদনের। আসন্ন হাওড়া পুরসভা ভোটের জন্য বিজেপি টিকিট পেতে আবেদন জমা পড়েছে প্রায় ৫০০। দলের সূত্রে জানা যাচ্ছে উত্তর হাওড়ার অবাঙালি অধ্যুষিত যে সমস্ত ওয়ার্ডগুলি রয়েছে সেখানে সবথেকে বেশি টিকিটের দাবিদার। এমন কী কিছু কিছু ওয়ার্ডে ১৫ থেকে ২০ জন প্রার্থী হতে চেয়ে আবেদন করেছেন। আবার বাঙালি অধ্যুষিত ওয়ার্ডগুলিতে তুলনামূলকভাবে আবেদনকারীদের সংখ্যা কম।
সোমবার হাওড়ায় পুরভোট নিয়ে বৈঠকে বসেন বিজেপি নেতৃত্ব। সেখানে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর দলের পুরভোটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ রাহুল সিনহা বলেন, বিজেপির সঙ্গে যুক্ত এবং ভোটে জেতার সম্ভাবনা রয়েছে, এমন ব্যক্তিদেরই প্রার্থী করার কথা ভাবা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “যাঁরা বিজেপি করেন ও যাঁদের জেতার সম্ভাবনা রয়েছে, এরকম লোক যাঁরা আছেন, তাঁদেরকেই দল টিকিট দেওয়ার কথা চিন্তা করছে। এর বাইরে কাউকে টিকিট দেওয়া হবে না।”
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হাওড়া পুরসভার ১৩টি মণ্ডলের সভাপতিরা। প্রার্থী বাছাই নিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন নেতৃত্ব। প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরদের বিজেপির টিকিট দেওয়ার বিষয়ে দলের পুরনো নেতাদের একাংশের আপত্তি রয়েছে বলে খবর। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে দলের হয়ে কাজ করা কর্মীদেরই সুযোগ দেওয়া উচিত। সেই কারণে স্থানীয় স্তরে পরিচিত এবং সংগঠনের কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের নাম নিয়ে আলোচনা চলছে।
আবেদনের সংখ্যায় ওয়ার্ডের চরিত্র অনুযায়ী ফারাক রয়েছে। অবাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় কোনও কোনও ওয়ার্ডে ১৫ থেকে ২০ জন টিকিট চেয়েছেন। বাঙালি অধ্যুষিত ওয়ার্ডে সংখ্যাটা ৫ থেকে ৬। মহিলা সংরক্ষিত ওয়ার্ডগুলিতে আবেদন করেছেন ২ থেকে ৩ জন। এখনও আবেদন জমা পড়তে পারে বলে মনে করছে দলীয় নেতৃত্ব।
প্রার্থী বাছাইয়ে মণ্ডল স্তরের কর্মীদের মতামত নেওয়া হবে। স্থানীয় নেতা-কর্মীরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ওয়ার্ড ধরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঠিক করবেন। এলাকায় কার গ্রহণযোগ্যতা বেশি, কে দীর্ঘদিন ধরে দলের হয়ে কাজ করছেন, সেই বিষয়গুলিও বিবেচনায় রাখা হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলবে। মণ্ডল স্তরে নাম ঠিক হওয়ার পর তা পাঠানো হবে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে। সেখানেই চূড়ান্ত তালিকায় অনুমোদন দেওয়া হবে।

Leave a comment