প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কর্মজীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বিশেষ কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর আওতায় ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত একাধিক কর্মসূচি চলবে। এই অভিযানের প্রথম দিনেই, অর্থাৎ ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে স্কুল পড়ুয়াদের দিয়ে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
স্কুলশিক্ষা দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের সমস্ত পড়ুয়াকে এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি পড়ুয়ার হাতে একটি করে প্রদীপ তুলে দেওয়া হবে। ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রদীপ জ্বালাবেন পড়ুয়ারা। ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যে সমষ্টিগত সংকল্প এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রতীক হিসেবেই এই আয়োজন করা হচ্ছে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি জেলার স্কুল পরিদর্শকদের পড়ুয়াদের নাম, যোগাযোগের নম্বর এবং অভিভাবকের নামের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই তালিকা জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় বিধায়কদের কাছেও পাঠাতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি স্কুলগুলিকে বিধানসভা-ভিত্তিকভাবে কর্মসূচিতে যুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রায় ২৫ হাজার প্রদীপ জ্বালানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে। রাজ্যে মোট ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। ফলে গোটা রাজ্যে প্রদীপের সংখ্যা ৭০ লক্ষের বেশি হতে পারে। প্রতিটি প্রদীপের জন্য দু’টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে।
এই কর্মসূচির পাশাপাশি স্কুল পড়ুয়াদের নিয়ে একাধিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। ‘বাচ্চো কে স্বপ্ন কা ভারত’ কর্মসূচির আওতায় ড্রয়িং, কুইজ, তাৎক্ষণিক বক্তৃতা, বিতর্ক এবং লেখার প্রতিযোগিতা হবে। ‘স্বপ্নের ভারত’ বিষয়ক কর্মসূচির পাশাপাশি স্কুল ও কলেজ পড়ুয়াদের নিয়ে ‘নমো সেবা নাটক’-এরও আয়োজন করা হবে।
এ ছাড়া সাফাই ও স্বচ্ছতা অভিযান, রক্তদান শিবির, সেবাযাত্রা, আলপনা বা রঙ্গোলি প্রতিযোগিতা এবং উদ্ভাবন-ভিত্তিক নানা উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মোট ১৩ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি কর্মসূচির ছবি ও ভিডিয়ো সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগী পরিবারগুলিকেও অভিযানের সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস, জল জীবন মিশন, সূর্য ঘর, আয়ুষ্মান ভারত এবং পিএম কিষান সম্মান নিধির মতো প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগও রয়েছে।
তবে এই কর্মসূচি ঘিরে আপত্তি জানিয়েছে শিক্ষক সংগঠনের একাংশ। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডলের অভিযোগ, পড়ুয়া ও অভিভাবকদের এই ধরনের কর্মসূচিতে যুক্ত করে তাঁদের উপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রচারের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

Leave a comment