কর্মরত শিক্ষকদের টেট পরীক্ষা নিয়ে রাজ্যে বড় পদক্ষেপ করল শিক্ষা দফতর। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে এবার যে সমস্ত কর্মরত শিক্ষক এখনও টেট পরীক্ষায় বসেননি, তাঁদের জন্য পরীক্ষার আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) এবং প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য।
শুক্রবার বিকাশ ভবন থেকে এসএসসির চেয়ারম্যান এবং প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতিকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনেই কর্মরত শিক্ষকদের টেট পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
শিক্ষা দফতরের চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালে শিশুদের বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার আইন কার্যকর হওয়ার আগে যাঁরা শিক্ষক পদে নিযুক্ত হয়েছেন এবং এখনও পাঁচ বছরের বেশি চাকরি করার সুযোগ রয়েছে, তাঁদের টেট পাশ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে চাকরি নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
এই বিষয়ে ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রথম নির্দেশে কর্মরত শিক্ষকদের দুই বছরের মধ্যে টেট পাশ করতে বলা হয়েছিল। পরে বিভিন্ন আবেদনের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের ২৯ মে সেই নির্দেশে কিছুটা সংশোধন আনে শীর্ষ আদালত। সংশোধিত নির্দেশে টেট পাশের জন্য তিন বছরের সময়সীমা দেওয়া হয়।
রাজ্যের শিক্ষা দফতর জানিয়েছে, ২০২৮ সালের ৩১ অগস্টের মধ্যে অথবা তার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্মরত শিক্ষকদের টেট পাশ করতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে যাতে শিক্ষকরা পরীক্ষায় বসার সুযোগ পান, তার জন্য বছরে দু’বার টেট আয়োজনের ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। ফলে ছয় মাস অন্তর পরীক্ষায় বসার সুযোগ মিলতে পারে।
এখন SSC এবং প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে। কবে পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হবে এবং কীভাবে আবেদন নেওয়া হবে, তা পরবর্তী সময়ে জানা যাবে।
পাশাপাশি শিক্ষা দফতর স্পষ্ট করেছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী টেট পাশের সময়সীমা আর বাড়ানোর আবেদন গ্রহণ করা হবে না। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টেট পাশ করাই এখন সংশ্লিষ্ট কর্মরত শিক্ষকদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a comment