রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মীদের বদলি সংক্রান্ত নিয়মে বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। প্রশাসনিক প্রয়োজন অনুযায়ী এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ও কর্মীদের বদলির ব্যবস্থা চালু করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে নতুন সংশোধনী বিলে। বৃহস্পতিবার বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে বিলটি পেশ হওয়ার কথা।
প্রস্তাবিত ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিস অ্যান্ড কলেজেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল’-এর মাধ্যমে ২০১৭ সালের আইনে নতুন ১৪এ ধারা যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। এই ধারা কার্যকর হলে প্রশাসনিক প্রয়োজনে কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি করা সম্ভব হবে। তবে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজ্য সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করার বিধান রাখা হচ্ছে।
নয়া ব্যবস্থায় বদলি হওয়া কর্মীদের চাকরির স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার কথাও বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট শর্ত মেনে তাঁদের চাকরির সুযোগ-সুবিধা, সিনিয়রিটি এবং অন্যান্য অধিকার বজায় থাকবে। পাশাপাশি কর্মস্থল পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মী ট্রান্সফার গ্র্যান্ট এবং ব্যক্তিগত সামগ্রী পরিবহণের খরচ পাওয়ার অধিকারী হবেন।
বদলির পর কর্মীর সামনে দুটি বিকল্প থাকার কথাও রয়েছে। তিনি চাইলে নিজের পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়ে লিয়েন বজায় রাখতে পারবেন। আবার নতুন যে বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে, সেখানেই চাকরি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
সরকারের যুক্তি, রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মানবসম্পদের আরও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ। কোথাও কোনও নির্দিষ্ট বিষয়ে শিক্ষক বা কর্মীর ঘাটতি থাকলে অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট দক্ষ কর্মীকে কাজে লাগানো যাবে। এর ফলে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় প্রশাসনিক সমন্বয় আরও বাড়বে বলে মনে করছে সরকার। একই সঙ্গে ‘এক রাজ্য, এক শিক্ষা ব্যবস্থা’ নীতির বাস্তবায়নেও এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তবে প্রস্তাবিত বদলি ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষক মহলের একাংশে আপত্তি রয়েছে। ওয়েবকুপার নেতা কেশব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ রয়েছে। বহু অধ্যাপক নির্দিষ্ট গবেষণা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকেন এবং তাঁদের অধীনে গবেষক বা স্কলাররা কাজ করেন। তাই হঠাৎ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি হলে গবেষণার কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একই বিষয় পড়ানো হয় না বলেও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
অন্যদিকে, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কেও উচ্চশিক্ষা দফতরের আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে। এতদিন বিশ্ববিদ্যালয়টি সংখ্যালঘু বিষয়ক দফতরের অধীনে ছিল। UGC-র বিভিন্ন প্রকল্প কার্যকর করার ক্ষেত্রে যে প্রশাসনিক সমস্যা তৈরি হচ্ছিল, উচ্চশিক্ষা দফতরের আওতায় এলে তা কমানো সম্ভব হবে বলে সরকারের আশা। বিলটি বিধানসভায় পেশ হওয়ার পরই এর বিস্তারিত বিধান এবং বদলি প্রক্রিয়া বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী মহলে নজর থাকবে।

Leave a comment