দশেরা শেষ হতেই ফের চিন্তা বাড়াল দিল্লির দূষণ। উৎসবের পর রাজধানীর বাতাসে বেড়েছে সূক্ষ্ম দূষণকারী কণার মাত্রা। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কয়েকটি এলাকায় বাজি ফাটানোর অভিযোগ উঠেছে। তার প্রভাব বাতাসের গুণমানে কতটা পড়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে উৎসবের পর দূষণের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

দশেরার পরের দিন দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ছিল ২৪৫। বাতাসের গুণমান ছিল ‘খারাপ’ পর্যায়ে। পিএম২.৫-এর ঘনত্ব ছিল প্রতি ঘনমিটারে ৮১ থেকে ২১৭ মাইক্রোগ্রাম। রাতের দিকে এই সূক্ষ্ম কণার গড় ঘনত্ব পৌঁছয় ১৯১.২ মাইক্রোগ্রামে। পাঞ্জাবি বাগের মতো কয়েকটি এলাকায় পিএম২.৫-এর মাত্রা ৩০০ ছাড়িয়ে যায়। গত পাঁচ বছরের দশেরার পরবর্তী সময়ের তুলনায় এ বার দূষণকারী কণার মাত্রা বেশি বলে জানা গিয়েছে।

বাজি পোড়ানোর ফলে ধোঁয়া ও ছাইয়ের পাশাপাশি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান। এর মধ্যে পিএম২.৫ কণা বিশেষ ভাবে বিপজ্জনক। আকারে ছোট হওয়ায় শ্বাসের সঙ্গে এগুলি ফুসফুসের গভীরে পৌঁছে যেতে পারে। এতে শ্বাসকষ্ট-সহ শ্বাসযন্ত্রের নানা সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বাজি তৈরিতে পটাশিয়াম নাইট্রেট, কাঠকয়লা ও সালফারের মতো উপাদান ব্যবহার করা হয়। আবার বিভিন্ন ধাতব যৌগের সাহায্যে বাজিতে রং তৈরি হয়। স্ট্রনশিয়াম বা লিথিয়াম থেকে লাল, বেরিয়াম থেকে সবুজ এবং তামা থেকে নীল রং পাওয়া যায়। বাজি পোড়ার পর এসব উপাদানের কিছু অংশ সূক্ষ্ম কণা হিসেবে বাতাসে মিশে যায়।

তবে দিল্লির দূষণের জন্য শুধু বাজিকে দায়ী করা যায় না। যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলো এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনও এর অন্যতম কারণ। হাওয়ার গতি কম থাকলে দূষিত কণা সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে না। তাই উৎসব শেষ হলেও রাজধানীর বাতাস পরিষ্কার হতে সময় লাগতে পারে।

Leave a comment