পাটনা থেকে লখনউ যাচ্ছিল ইন্ডিগোর বিমান। মাঝপথে হঠাৎই খারাপ হয়ে যায় আবহাওয়া। তার মধ্যেই প্রায় ১৭ হাজার ফুট উচ্চতায় বিমানে বাজ পড়ে বলে জানা গিয়েছে। বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। তবে শেষ পর্যন্ত কোনও বড় বিপদ হয়নি। নিরাপদেই লখনউ বিমানবন্দরে নামানো হয় বিমানটিকে। ১০৪ জন যাত্রী এবং ৬ জন বিমানকর্মী, সকলেই সুরক্ষিত রয়েছেন।

ঘটনাটি ইন্ডিগোর 6E925 উড়ানের। দুপুর ৩টে ১০ মিনিটে পাটনা বিমানবন্দর থেকে লখনউয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল বিমানটি। প্রায় ঘণ্টাখানেকের যাত্রাপথে আবহাওয়া প্রতিকূল হয়ে ওঠে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেই প্রায় ১৭ হাজার ফুট উচ্চতায় বিমানে বাজ পড়ে।

বজ্রপাতের পরেও বিমানটি নিয়ন্ত্রণে ছিল। পাইলটরা সেটিকে নিরাপদে গন্তব্যের দিকে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর লখনউ বিমানবন্দরে অবতরণ করে বিমানটি। মাটিতে নামার পর সেটি পরীক্ষা করতে গিয়ে সামনের অংশে ক্ষতির চিহ্ন দেখা যায়। বিমানের নাকের দিকে একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে যাত্রীদের কেউ আহত হননি।

লখনউ পৌঁছনোর পর ওই বিমানটিকে আর পরবর্তী উড়ানে পাঠানো হয়নি। 6E925-এর পরের পরিষেবা ছিল আহমেদাবাদের উদ্দেশে। বিমানটি পরীক্ষা করার জন্য সরিয়ে রাখায় ওই উড়ানের যাত্রীদের অন্য বিমানে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। পরে তাঁরা নিরাপদেই আহমেদাবাদের উদ্দেশে রওনা দেন।

ইন্ডিগোর বিমানে আবহাওয়ার কারণে সমস্যার ঘটনা এর আগেও সামনে এসেছে। চলতি বছরের জুন মাসে একটি ইন্ডিগো বিমানে বজ্রপাতের খবর পাওয়া গিয়েছিল। তার কয়েক দিন আগেই গুয়াহাটি থেকে বেঙ্গালুরুগামী একটি বিমান কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার সময় সমস্যায় পড়ে। অবতরণের সময় বিমানের লেজের অংশ রানওয়ের সঙ্গে অস্বাভাবিকভাবে ধাক্কা খায়। খারাপ আবহাওয়ার কারণেই ওই সমস্যা হয়েছিল বলে বিমান সংস্থার তরফে জানানো হয়েছিল। সেবারও যাত্রী ও বিমানকর্মীরা নিরাপদ ছিলেন।

এবারের ঘটনাতেও বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো গিয়েছে। তবে বজ্রপাতের জেরে বিমানের কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই সেটিকে ফের পরিষেবায় ব্যবহার করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Leave a comment