জগন্নাথদেবের ধাম পুরীর সঙ্গে খাজার নাম দীর্ঘদিনের। মন্দিরে আসা ভক্তদের পাশাপাশি পর্যটকরাও পুরী থেকে খাজা কিনে নিয়ে যান। স্বর্গদ্বার, বড়দণ্ড থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন এলাকায় খাজার অসংখ্য দোকান রয়েছে। সেই জনপ্রিয় মিষ্টির গুণমান নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে আসার পর এবার অভিযান চালাল পুরী প্রশাসন। অভিযানে প্রায় চার কুইন্টাল খাজা ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে খবর, বেশ কিছুদিন ধরেই নিম্নমানের এবং নকল খাজা বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। অভিযোগ ছিল, ভক্তদের কাছ থেকে চড়া দাম নেওয়া হলেও তাঁদের হাতে দেওয়া হচ্ছে নিম্নমানের খাজা। বিষয়টি নিয়ে একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ও খাদ্য সুরক্ষা দফতর অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

সিটি ডিএসপির নেতৃত্বে পুরী শহরের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। শ্রী কৃষ্ণ সিনেমা লেন, বড়দণ্ড, স্বর্গদ্বার এবং আশপাশের এলাকায় থাকা একাধিক খাজার গুদাম ও কারখানায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে খাজা তৈরির পদ্ধতি এবং ব্যবহৃত উপকরণ খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা।

অভিযানের সময় কয়েকটি জায়গায় খাজা তৈরিতে নিম্নমানের তেল ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি খাজায় ব্যবহৃত রসও বহু পুরনো বলে দাবি করেছে পুলিশ। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়। গুণমান নিয়ে প্রশ্ন থাকা খাজা যাতে বাজারে বিক্রি করা না হয়, সেই নির্দেশ দেওয়া হয়।

পুরীর পুলিশ সুপার প্রতীক সিং জানিয়েছেন, ভক্তদের কাছে নিম্নমানের খাজা বিক্রির অভিযোগ বারবার প্রশাসনের কাছে আসছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে প্রায় ৪ কুইন্টাল খাজা ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

পুরীতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও পর্যটক আসেন। অনেকেই জগন্নাথদেবের দর্শনের পর খাজা কিনে বাড়ি ফেরেন। তাই এই মিষ্টির গুণমান বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসন।

ব্যবসায়ীদের খাদ্য সুরক্ষার নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করে খাজা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নিম্নমানের খাদ্যপণ্য বিক্রির অভিযোগ যাতে ফের না ওঠে, সে বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী আগামী দিনেও পুরীর বিভিন্ন খাজা গুদাম ও কারখানায় অভিযান চালানো হতে পারে।

Leave a comment