কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে চর্চা এখন সর্বত্র। পড়াশোনা হোক বা চাকরির বাজার, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাড়ছে এই প্রযুক্তির ব্যবহার। এবার স্কুলের পাঠ্যক্রমেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে আরও গুরুত্ব দিতে চলেছে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (NCERT)। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির সিলেবাসে এই বিষয়টি যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পড়ুয়াদের যুক্তি দিয়ে চিন্তা করা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়াতে পাঠ্যক্রমে জায়গা পেতে চলেছে ‘কম্পিউটেশনাল থিঙ্কিং’।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই বদলাচ্ছে কাজের ধরন। ভবিষ্যতে বিভিন্ন পেশায় এই প্রযুক্তির ভূমিকা আরও বাড়তে পারে। তাই স্কুলজীবন থেকেই এই প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা তৈরি হলে পড়ুয়ারা পরবর্তী সময়ে সুবিধা পাবে বলে মনে করছেন শিক্ষামহলের একাংশ। এর আগে সিবিএসই তৃতীয় শ্রেণি থেকেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিক্ষার উদ্যোগ নিয়েছিল। এ বার NCERT-র নতুন পরিকল্পনাতেও সেই বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

সূত্রের খবর, প্রস্তাবিত মডিউলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কী, কী ভাবে তা কাজ করে এবং দৈনন্দিন জীবনে কোথায় এর ব্যবহার হচ্ছে, তা শেখানো হবে। তবে শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার জানলেই হবে না, তার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কেও পড়ুয়াদের ধারণা দেওয়া হবে। কারণ, এই প্রযুক্তির সাহায্যে পাওয়া তথ্য সব সময় নির্ভুল হয় না। ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়া কিংবা প্রযুক্তির অপব্যবহারের মতো বিষয়ও রয়েছে। ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভালো-মন্দ বুঝে তার ব্যবহার শেখানোর উপর জোর দেওয়া হবে।

এই পাঠ্যক্রম তৈরির ক্ষেত্রে স্কুলের পরিকাঠামোর দিকটিও মাথায় রাখা হয়েছে বলে খবর। দেশের বহু স্কুলে কম্পিউটার বা ডিজিটাল সরঞ্জামের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। সেই কারণে পরিকাঠামোর অভাব থাকলেও যাতে পড়ুয়ারা এই প্রযুক্তি শেখার সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা হচ্ছে। বইয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি হাতে-কলমে শেখার সুযোগ তৈরির কথাও রয়েছে পরিকল্পনায়।

অন্য দিকে, ‘কম্পিউটেশনাল থিঙ্কিং’ হল কোনও সমস্যাকে বুঝে সেটিকে কয়েকটি ধাপে ভাগ করে সমাধানের পথ খুঁজে বের করার পদ্ধতি। এর মাধ্যমে পড়ুয়ারা তথ্য বিশ্লেষণ করতে এবং যুক্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে শিখবে। শুধু কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রেই নয়, দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যার সমাধানেও এই দক্ষতা কাজে লাগবে।

২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই পাঠ্যক্রম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে NCERT সূত্রে খবর। নতুন বিষয়গুলি স্কুলে কী ভাবে পড়ানো হবে, তা কার্যকর করার ক্ষেত্রে শিক্ষক-প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রীর ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

Leave a comment