৯ দিন ধরে সুড়ঙ্গের ভিতরে বন্দি। বাইরে তখন ভয়াবহ বন্যা ও ধসের তাণ্ডব। কখন উদ্ধার হবেন, আদৌ জীবিত অবস্থায় বাইরে বেরোতে পারবেন কি না কিছুই জানা ছিল না। এমন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেও মনোবল হারাননি নেপালের ৩০ বছরের সঞ্জয় শাহ। অন্ধকার সুড়ঙ্গে তাঁর সঙ্গী হয়ে ছিল ‘হরে কৃষ্ণ’ মহামন্ত্র। আর শেষ পর্যন্ত জন্মাষ্টমীর দিনেই উদ্ধার করা হল তাঁকে।

সঞ্জয় নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির কর্মী এবং মধেশ প্রদেশের সপ্তরী জেলার বাসিন্দা। ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কন্ট্রোল রুমে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। ভয়াবহ বিপর্যয়ের সময় পরিস্থিতি বুঝে সহকর্মীদের দ্রুত সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন সঞ্জয়। অন্যরা নিরাপদে বেরিয়ে যেতে পারলেও তিনি আর বেরোনোর সুযোগ পাননি। সুড়ঙ্গ ধসে পড়ার পর সেখানেই আটকে যান।

তারপর কেটে যায় একের পর এক দিন। উদ্ধারকারীরা বাইরে থেকে তাঁকে বের করার চেষ্টা চালালেও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে অভিযান ছিল অত্যন্ত কঠিন। সুড়ঙ্গের ভিতরে সেই দীর্ঘ সময় কীভাবে কাটিয়েছেন, তা জানতে চাইলে উদ্ধারের পর সঞ্জয় জানান, তিনি ৯ দিন ধরে ‘হরে কৃষ্ণ’ মহামন্ত্র জপ করেছেন।

সঞ্জয়ের কথায়, “গত ৯ দিন ধরে হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করেছি।” চরম বিপদের মধ্যে এই মন্ত্রই তাঁকে মানসিকভাবে শক্ত থাকতে সাহায্য করেছে বলে জানান তিনি। বেঁচে ফেরার আশাও হারাননি।

অবশেষে শুক্রবার নেপাল সেনা এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের দীর্ঘ অভিযানের পর সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় সঞ্জয়কে। একইসঙ্গে উদ্ধার হন ৪৫ বছরের কবীর মহার্জন। শারীরিক জটিলতার কারণে কবীরকে দ্রুত বিমানে কাঠমান্ডুর নেপাল আর্মি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সঞ্জয়কে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ত্রিশূলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

উদ্ধারের পর সঞ্জয় আরও জানান, সুড়ঙ্গের ভিতরে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে আওয়াজের মাধ্যমে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছিল। তবে তাঁদের সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। সুড়ঙ্গের আরও ভিতরে কেউ আটকে থাকতে পারেন বলেও আশঙ্কা রয়েছে।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে বরফ ও পাথরের বিশাল ধস থেকে ভয়াবহ হড়পা বানের সৃষ্টি হয়েছিল। তার জেরে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত অনেকেই রয়েছেন।

এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যেই ৯ দিন পর সঞ্জয়ের জীবিত উদ্ধার নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে। আর জন্মাষ্টমীর দিনেই তাঁর উদ্ধার হওয়ায় ঘটনাটি পেয়েছে এক অন্য মাত্রা। সুড়ঙ্গের অন্ধকারে কৃষ্ণনাম জপ করে শেষ পর্যন্ত কৃষ্ণের জন্মদিনেই আলোয় ফিরলেন সঞ্জয়।

Leave a comment