কল্যাণী-বারাকপুর হাইওয়েতে একটি মোটরবাইকে তল্লাশি চালিয়ে বেঙ্গল স্লো লরিসের একটি শাবক উদ্ধার করল পুলিশ। এই ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন সুজয় দাস ও ইন্দ্রজিত মুখোপাধ্যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত সুজয় দাসের নাম আলিপুর চিড়িয়াখানা সংক্রান্ত একটি বন্যপ্রাণী পাচারের মামলাতেও রয়েছে। ফলে এই ঘটনার সঙ্গে আগের মামলার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশ সূত্রে খবর, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার কল্যাণী-বারাকপুর হাইওয়েতে অভিযান চালানো হয়। সেই সময় একটি মোটরবাইক আটক করে তল্লাশি চালান পুলিশকর্মীরা। বাইকে রাখা একটি ঝুড়ি থেকে উদ্ধার হয় বিরল প্রজাতির প্রাণীটির শাবক। এরপরই বাইকে থাকা দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃত সুজয় দাস নাগেরবাজারের বাসিন্দা। অন্যদিকে, ইন্দ্রজিত মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি কাশীপুর এলাকায়।

পুলিশ সূত্রের দাবি, সুজয় দাসের বিরুদ্ধে আগের মামলার তথ্য রয়েছে। আলিপুর চিড়িয়াখানা সংক্রান্ত বন্যপ্রাণী পাচারের মামলায় তাঁর নাম থাকায় নতুন করে উদ্ধার হওয়া প্রাণীটির সঙ্গে ওই ঘটনার কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রাণীটিকে কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

সম্প্রতি উদয়পুর-তালসারির বনাঞ্চল থেকে বেশ কয়েকটি ওরাংওটাং উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। ওই ঘটনার তদন্তে আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচারচক্রের হদিস পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। গ্রেফতার করা হয়েছিল একাধিক ব্যক্তিকে। সেই ঘটনার পর কল্যাণী থেকে বিরল প্রজাতির প্রাণী উদ্ধারের ঘটনা সামনে আসায় বন্যপ্রাণী পাচার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বেঙ্গল স্লো লরিস মূলত নিশাচর প্রাণী। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন বনাঞ্চলে এদের দেখা মেলে। বড় চোখ এবং ধীরগতিতে চলাফেরার জন্য পরিচিত এই প্রাণী দিনের বেশির ভাগ সময় গাছের আড়ালে কাটায়। রাতের বেলায় খাবারের সন্ধানে বের হয়। বিপন্ন প্রজাতির এই প্রাণীকে অবৈধভাবে সংগ্রহ ও পরিবহণ করা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে উদ্বেগের বিষয়।

Leave a comment