দুর্গাপুজোর উৎসব শুরু হওয়ার আগেই বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক হল প্রশাসন। পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার পানাগড় এলাকায় পুজো কমিটিগুলিকে লেজার শো না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মণ্ডপের শক্তিশালী লেজার আলো আকাশে পৌঁছে গেলে বিমানচালকদের দৃষ্টিতে সমস্যা হতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই আগাম এই নির্দেশ বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।

পানাগড়ে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বায়ুসেনা ছাউনি। একইসঙ্গে দুর্গাপুরে রয়েছে কাজী নজরুল ইসলাম বিমানবন্দর। পানাগড় ও সংলগ্ন আকাশপথ দিয়ে বায়ুসেনার বিমান চলাচলের পাশাপাশি যাত্রীবাহী বিমানও যাতায়াত করে। ফলে পুজোর সময় মণ্ডপের আলোকসজ্জা থেকে বিমান চলাচলে কোনও ধরনের সমস্যা তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দুর্গাপুজোর মণ্ডপে থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন ধরনের আলোকসজ্জা এখন উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ। অনেক জায়গায় দর্শকদের মনোরঞ্জনের জন্য লেজার শোয়েরও আয়োজন করা হয়। কিন্তু বিমানঘাঁটি ও বিমানবন্দরের কাছাকাছি এলাকায় শক্তিশালী লেজার রশ্মি ব্যবহার করলে তা ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই কাঁকসার পুজো কমিটিগুলিকে এই ধরনের আয়োজন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই বিষয়টি নিয়ে কাঁকসায় পুজো কমিটিগুলিকে নিয়ে বৈঠক করে ব্লক প্রশাসন এবং আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এসিপি ট্রাফিক রাজকুমার মালাকার। তিনি জানান, পুজোর দিনগুলিতে কোনও কমিটি যাতে প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে লেজার শো না করে, সেজন্য কাঁকসা থানার পুলিশকে বাড়তি নজরদারি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০২১ সালে কলকাতার শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের পুজোয় লেজার শো ঘিরে বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে সমস্যার অভিযোগ সামনে এসেছিল। কলকাতা বিমানবন্দরের কাছে বুর্জ খলিফার আদলে তৈরি মণ্ডপে লেজার শোয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। বিমান অবতরণের সময় পাইলটদের সমস্যার অভিযোগ ওঠার পর সেই লেজার শো বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে পানাগড়ে না ঘটে, তা নিশ্চিত করতেই পুজোর আগেই ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি আকাশপথের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েই পুজো কমিটিগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a comment