অক্টোবর মানেই দুর্গাপুজোর ছুটির আমেজ। তার মধ্যেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের সরকারি কর্মীদের জন্য আরও একদিন ছুটির ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। আগামী ৬ অক্টোবর এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন রয়েছে। সেই কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার সরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ওই দিন ছুটি থাকবে।
সোমবার অর্থ দফতরের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা এলাকার সরকারি কার্যালয়, বিভিন্ন সংস্থা, নিগম, বোর্ড, স্থানীয় ও বিধিবদ্ধ সংস্থা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। ‘নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১’-এর ২৫ নম্বর ধারার আওতায় এই ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
ভোটের কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কর্মীদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর রিসেপশন সেন্টারে নির্বাচনী কর্মীদের ফিরতে অনেকটা রাত হয়ে যেতে পারে। সেই কারণে ৭ অক্টোবর তাঁদের পক্ষে নিয়মিত কাজে যোগ দেওয়া সম্ভব না হলে যোগ্য কর্মীদের ওই দিনও বিশেষ ছুটি দেওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে অর্থ দফতর।
এছাড়াও যে সমস্ত সরকারি অফিস বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ভোটকেন্দ্র, সেক্টর অফিস কিংবা নির্বাচনী সামগ্রী বিতরণ ও গ্রহণের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে, সেগুলির ক্ষেত্রেও স্থানীয় ছুটি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাইলে ৫ অক্টোবর, অর্থাৎ নির্বাচনী সামগ্রী পাঠানোর দিন ছুটি ঘোষণা করতে পারবেন।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রেই বিধায়ক না থাকায় উপনির্বাচনের প্রয়োজন তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিয়ম অনুযায়ী একটি আসন ছাড়তে হওয়ায় তিনি নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন।
অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ও নওদা কেন্দ্র থেকে জয় পেয়েছিলেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত এবং আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর। পরবর্তীতে রেজিনগর আসনটিও তিনি ছেড়ে দেন। ফলে দুই কেন্দ্রই বিধায়কশূন্য হয়ে পড়ে।
এই দুই শূন্য আসনেই আগামী ৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণ হবে। তার আগে উপনির্বাচন ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতিও জোরদার হচ্ছে।

Leave a comment