পশ্চিমবঙ্গে বিমান যোগাযোগের পরিধি আরও বাড়ানোর উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে চলেছে। শিল্প ও পর্যটনের প্রসারে রাজ্যের চারটি আঞ্চলিক বিমানবন্দর নিয়ে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর ত্রিপাক্ষিক সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা। নবান্ন সভাঘরে কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার এবং এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার মধ্যে এই চুক্তি হবে।
প্রস্তাবিত চারটি বিমান পরিষেবা কেন্দ্র হল পুরুলিয়ার ছররা, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা সিভিল এনক্লেভ এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুন্ডা। এই বিমান পরিষেবা চালু হলে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের সঙ্গে কলকাতা এবং দেশের অন্যান্য এলাকার আকাশপথে যোগাযোগের সুযোগ বাড়তে পারে।
মউ অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের তরফে প্রয়োজনীয় জমি, রাস্তা, বিদ্যুৎ, জল এবং অন্যান্য সহায়ক পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বিমানবন্দরের মূল পরিকাঠামো নির্মাণের বিষয়টি দেখার কথা। বিমান পরিষেবা সংক্রান্ত দায়িত্বে থাকবে এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া।
পুরুলিয়ার ছররা বিমানবন্দরকে ঘিরে ইতিমধ্যেই কাজ এগিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪২ সালে সামরিক প্রয়োজনে এই বিমানক্ষেত্র তৈরি হয়েছিল। ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত ব্যবহারের পর দীর্ঘ সময় এটি অব্যবহৃত অবস্থায় ছিল। বর্তমানে বিমান পরিষেবা চালুর লক্ষ্যে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে।
ছররা বিমানবন্দর চালু হলে পুরুলিয়ার পর্যটন শিল্পে যোগাযোগের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। অযোধ্যা পাহাড়-সহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে বাইরের জেলা ও রাজ্য থেকে পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হতে পারে। একইসঙ্গে রঘুনাথপুর শিল্পাঞ্চল এবং ঝাড়খণ্ডের সীমান্তবর্তী শিল্প এলাকাগুলির সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট বিমানবন্দরেও কাজ এগিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১৯ আসনের ছোট বিমান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তীতে রানওয়ে সম্প্রসারণ করে ৭২ আসনের এটিআর বিমান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
হাসিমারা ও কলাইকুন্ডা বায়ুসেনার গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হওয়ায় সেখানে বেসামরিক বিমান পরিষেবার জন্য সিভিল এনক্লেভ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে হাসিমারায় বিমান পরিষেবা চালু হলে ডুয়ার্স ও উত্তরবঙ্গের পর্যটন যোগাযোগে সুবিধা হতে পারে।
চারটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের আঞ্চলিক বিমান নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মউ স্বাক্ষরের পর প্রয়োজনীয় অনুমোদন, পরিকাঠামো এবং বিমান পরিষেবা চালুর একাধিক ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।

Leave a comment